বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে গণপরিবহনের মালিক ও শ্রমিকেরা জ্বালানির দাম বাড়ানোর অজুহাতে পরিবহন বন্ধ করে দিলেন কোন আইনের ভিত্তিতে। তাঁরা ধর্মঘটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তাহলে গণপরিবহন চলছে না কেন? কেন লাখ লাখ মানুষকে দুর্বিষহ করে তোলা হলো। তাঁরা কি দেশের আইনকানুনের কিছুই তোয়াক্কা করেন না? যেকোনো সংগঠন বা সমিতির ধর্মঘট ডাকতে হলে ১৫ দিনে আগে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সেসব না করে হঠাৎ বাস, ট্রাক, লরি বন্ধ করে দেওয়া হলো কোন যুক্তিতে? সরকার কি তাদের কাছে জিম্মি? জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো যদি গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার একমাত্র কারণ হয়, তাহলে সিএনজিচালিত বাস কেন বন্ধ করা হলো। এর পক্ষে মালিকপক্ষের একজন বলেছেন, অন্য বাস বন্ধ থাকায় তাঁরা এ বাসও চালাচ্ছেন না। অদ্ভুত যুক্তি!

পরিবহন ধর্মঘটের বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা দেখে মনে হয়, দেশে আইনানুগ কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। গণপরিবহনমালিকেরা যেটি করবেন, সেটাই আইন। সর্বশেষ খবর হলো গণপরিবহনের মালিকেরা গত শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে বৈঠক করলেও তা সফল হয়নি। তাঁরা বলেছেন, ধর্মঘট চলবে। এর আগে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণপরিবহনমালিকদের প্রতি ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু গণপরিবহনের মালিকেরা মন্ত্রীদের আহ্বানকে আদৌ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে হয় না। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ভাড়া না বাড়ানো পর্যন্ত মালিকেরা গণপরিবহন বন্ধ রাখবেন।

আজ রোববার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে মালিকপক্ষ যে তাঁদের ভাড়া বাড়ানোর দাবি আদায় করে নেবেন, তা ধারণা করা যায়। কেননা যাঁরা ধর্মঘট ডেকেছেন, তাঁরা অত্যন্ত ক্ষমতাধর, সরকারের আস্থাভাজন এবং বিভিন্ন সময় সরকারের সহায়ক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করেন। আবার তাঁরা আওয়ামী লীগ সরকারের করা গণপরিবহন আইনকে অকার্যকর করতে একাধিকবার ধর্মঘটও পালন করেছেন। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন, আজকের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা ধর্মঘটের আগে নেওয়া হলো না কেন? কেন তিন দিন ধরে জনজীবন স্তব্ধ করে দেওয়া হলো। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ছাড়াও হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থী অবর্ণনীয় দুর্দশায় পড়েছেন। পরিবহন বন্ধ থাকায় অনেকে পরীক্ষাও দিতে পারেননি। এর দায় কে নেবে?

আরও জরুরি প্রশ্ন হচ্ছে, করোনায় বিপর্যস্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি পরিবহন ভাড়ার যে প্রভাব পড়বে, সেই চাপ তারা নিতে পারবে তো? সরকার কি আদৌ এ জনগোষ্ঠীর কথা ভাবে?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন