পাঁচ লাখ টাকা আদায় করতে না পেরে এক যুবককে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। পল্লবী অঞ্চলের সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কমিটি সঠিক তথ্য উদ্‌ঘাটনে সক্ষম হলেও, তাদের প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য বলে প্রতীয়মান হবে কি না।

অজ্ঞাতনামা হিসেবে পাঁচ দিন মর্গে পড়ে থাকা নিহত যুবক নাহিদের লাশ উদ্ধারের পর তদন্ত কমিটির কাজ শেষ হলো না। অথচ পুলিশ বিভাগের উপকমিশনার নিশারুল আরিফের দাবি—অর্থ না পেয়ে হত্যা করার যে অভিযোগ নিহতের স্বজনেরা করেছেন, তা সত্য নয়। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন যে নাহিদ কোনো এক কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগী ছিলেন। সেই সঙ্গে একটি অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডিত হিসেবে সম্প্রতি জামিনে বেরিয়েছিলেন। আমরা যদি ধরেও নিই, এই তথ্য সঠিক, তাহলেও তাঁকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশের সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ প্রচলিত আইনে নেই। কিন্তু ২২ বছরের এই যুবকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ কোনো দুঃখ প্রকাশ করেনি। পুলিশ হত্যা না করলেও যেকোনো হত্যাকাণ্ড যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক, তা পুলিশের চিন্তাভাবনার মধ্যে আছে বলেও প্রতীয়মান হয় না। নিহতের বাবা প্রশ্ন রেখেছেন, ‘আমার ছেলে নেশাগ্রস্ত। কিন্তু তাই বলে তাকে এভাবে মরতে হবে?’

টাকা না পেয়ে হত্যা করল পুলিশ?এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তে অন্তত তিন পুলিশ সদস্য বরখাস্ত হয়েছিলেন। পুলিশ ছাড়াও আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি হয়েছিল। সেভাবে নাহিদ হত্যাকাণ্ডেরও একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার, বিশেষ করে পুলি​েশর উপকমিশনার যখন স্বীকার করছেন, যে গাড়িটি নাহিদকে তুলে নিয়েছিল, সেটি পল্লবী থানার সিভিল টিম ব্যবহার করে থাকে!

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন