বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের শতবর্ষ তথা মুজিব বর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন উপলক্ষে সরকার যত ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সেগুলোর মধ্যে গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষের জন্য গৃহীত ও বাস্তবায়নাধীন এ কর্মসূচি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও সবচেয়ে মানবিক বলে আমরা মনে করি। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের সর্বোত্তম পন্থা যেহেতু তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া; তাই সরকারের এ মানবিক উদ্যোগের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য একান্তভাবে কাম্য।

তবে সমস্যাটি বিরাট। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এ দেশে গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বেশ বড়। সারা দেশে তাদের মোট সংখ্যা নিরূপণের জন্য গত বছর দুটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। একটি তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি পরিবারের গৃহ নেই, জমিও নেই। আর সামান্য পরিমাণ জমি আছে কিন্তু গৃহ নেই, কিংবা থাকলেই সে গৃহ একেবারেই জরাজীর্ণ, এমন পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১। প্রথম শ্রেণির সব পরিবারকেই পর্যায়ক্রমে গৃহ ও ভূমিদানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে; তারপর দ্বিতীয় শ্রেণির পরিবারগুলোর জন্যও গৃহের ব্যবস্থা করা হবে। শনিবার গৃহদান কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের একজন মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে, সে জন্য সমগ্র বাংলাদেশের গৃহহীনদের নিরাপদ বাসস্থান তৈরি করে দেওয়া হবে।

প্রথম আলোর খবরে প্রকাশ, মোট প্রায় ৭০ হাজার পরিবারের জন্য নিরাপদ বাসস্থান নির্মাণের এ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে স্বল্প সময়ের মধ্যে। আমরা আশা করব, এরপরও যে বিপুলসংখ্যক মানুষ গৃহহীন ও ভূমিহীন রয়ে গেছে, তাদের জন্যও একই ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হবে একই রকম দ্রুততার সঙ্গে। নিরাপদ বাসস্থানের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। যে পরিবারগুলো গৃহ পেল, তাদের কর্মক্ষম সদস্যদের উৎপাদনক্ষমতাও বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা এ কর্মসূচির দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন