default-image

শুক্রবার ঢাকার ইন্দিরা রোড এলাকার একটি সড়কে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণে পাঁচটি ম্যানহোলের ঢাকনা ও রাস্তার স্ল্যাব উড়ে যাওয়ার
একটি সচিত্র খবর শনিবারের পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ছবিতে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত একটি অংশ দেখে অনুমান করা যায় বিস্ফোরণগুলো কতটা প্রচণ্ড ছিল। সৌভাগ্যের বিষয়, বিস্ফোরণের স্থানগুলোর কাছে সড়ক নির্জন ছিল বলে কেউ হতাহত হয়নি। কিন্তু লোকজন থাকলে তেমন ট্র্যাজেডি ঘটতে পারত।

ভূগর্ভস্থ নর্দমায় জমে ওঠা আবর্জনার পচন থেকে উৎপন্ন গ্যাস এবং তিতাসের গ্যাসলাইনের ছিদ্র দিয়ে নির্গত গ্যাস মিলে ইন্দিরা রোডের ওই সড়কের নিচে বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিতাসের জরুরি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ বিভাগের একজন কর্মী। নর্দমায় গ্যাস তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু তা যদি এমন মাত্রায় জমে ওঠে যে তা থেকে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে তা স্বাভাবিক নয়। নর্দমার ভেতরে উৎপন্ন গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার পথ না থাকলে তা জমতে জমতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য রাস্তা ঢালাইয়ের সময় পিটে ফাঁক রাখতে হয়, যাতে ফাঁক দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে যেতে পারে। ইন্দিরা রোডের ওই সড়কে তেমন ফাঁক রাখা হয়নি বলে তিতাসের ওই কর্মী প্রথম আলোকে বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

এ হলো সড়ক নির্মাণ ও সংরক্ষণের কাজে আনুষঙ্গিক ঝুঁকি এড়ানোর গুরুত্ব অনুধাবন না করা, কিংবা প্রকৌশলগত অজ্ঞানতা কিংবা দায়িত্বহীনতার ফল। দ্বিতীয়ত, তিতাস গ্যাসের লাইনে ছিদ্র হয়ে সড়কের নিচে বিপজ্জনক মাত্রায় গ্যাস জমে ওঠা এবং তা থেকে এই মাত্রার বিস্ফোরণের ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ার দায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। বছর দুয়েক আগেও পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় একই ধরনের গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ইন্দিরা রোড, পূর্ব রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দারা একাধিকবার ঢাকা ওয়াসা ও তিতাস গ্যাস কোম্পানিকে জানিয়েছেন যে তাঁরা মাঝেমধ্যেই বাতাসে গ্যাসের গন্ধ পান, কিন্তু কোনো কর্তৃপক্ষই কোনো পদক্ষেপ নেয় না। শুক্রবারের বিস্ফোরণগুলোর ঘটনাস্থল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত; সেই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও বলেছেন, ওয়াসা ও তিতাসকে বারবার চিঠি দিয়ে তাঁরা কোনো ফল পাননি। অবশেষে তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।

ভূগর্ভস্থ নর্দমা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার; গ্যাসের লাইনগুলো ছিদ্রমুক্ত রাখাসহ সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তিতাস গ্যাস কোম্পানির। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সহযোগিতা–সমন্বয়ের ভিত্তিতে উভয় সংস্থাকে এসব দায়িত্ব নিয়মিতভাবে পালন করতে হবে। নইলে কোথাও এ ধরনের বিস্ফোরণের পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রাণহানির ঝুঁকি থেকে যাবে। সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মন্তব্য পড়ুন 0