দারিদ্র্য বিমোচনের প্রয়াসে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গত এক দশকের ব্যবধানে আমরা দারিদ্র্যের হার দশমিক ১৫ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি কমাতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু এই প্রশংসনীয় সাফল্য সত্ত্বেও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের আরও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
কারণ, বাংলাদেশে এখনো ৩ কোটি ৮৫ লাখ মানুষ দরিদ্র। একটি দেশের অর্থাৎ মোট জনগোষ্ঠীর ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশই যদি দরিদ্র হয়, তাহলে তার দারিদ্র্য পরিস্থিতি যে করুণ, তা বলাই বাহুল্য। পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে যাদের মোট জনসংখ্যাই তিন কোটি নয়। আরও বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ অতিদরিদ্র, যাদের বলা চলে নিঃস্ব।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগ (জিইডি) সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যে সর্বসাম্প্রতিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে, তাতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষের এই চিত্র পাওয়া গেছে।
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে দারিদ্র্য বিমোচনে অবশ্যই আরও বেগ সঞ্চার করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক উপায়েই তা করা সম্ভব। শুধু মোট দেশজ উৎপাদন বাড়িয়ে দারিদ্র্য বিমোচন পুরোপুরি করা যাবে না, দরিদ্র মানুষের জন্য গুণগত মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এসবের পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য লাঘবের বিভিন্ন উপায় খুঁজে বের করতে হবে, উন্নয়নে সুষমতা আনার চেষ্টা করতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়টি সরকার-নির্বিশেষে প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এত বিপুলসংখ্যক দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী নিয়ে আমাদের পক্ষে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুকূল পরিবেশ দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম বড় পূর্বশর্ত।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন