বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন হলো খালের মধ্যে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মিত হলো কীভাবে? চউক যখন দেখেছে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, তারা সেটি ভেঙে ফেলল না কেন? কেবল চট্টগ্রামে নয়, সারা দেশে হাজার হাজার অননুমোদিত ভবন আছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ৩২১টি ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়েছিল, এগুলো ভেঙে ফেলা হবে। এ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৪ নম্বর ভবনসহ দুটি ভবন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন ও ফায়ার সার্ভিস বিল্ডিং। ঢাকার বাইরে বন্দরনগর চট্টগ্রামে ২৪টি, খুলনায় ৪০টি ও সিলেটে ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আছে। এর মধ্যে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও আছে।

ঢাকায় রাজউকের আওতাভুক্ত এলাকায় বর্তমানে ভবনের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। এর আগে অপর জরিপে ঢাকায় ৭২ হাজার ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কেবল নকশাবহির্ভূত স্থাপনা নয়, নকশা অনুমোদিত অনেক ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। অনেক বহুতল ভবনেও নিজস্ব অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নেই।

আবার নকশা অনুমোদনের নামে জালিয়াতির ঘটনাও কম নয়। ২০১৯ সালে বনানীর ২৩ তলা ভবনে আগুনে পুড়ে ২৫ জনের মৃত্যু ঘটনার পর জানা গেল, ওই ভবনের অনুমোদন ছিল ১৯ তলার; মালিকেরা জালিয়াতি করে ২৩ তলা করেছেন। প্রভাবশালী ভবনমালিকদের সঙ্গে রাজউকের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ সব সময়ই থাকে। ভবন আইন প্রতিপালনের চেয়ে তাঁরা একে অপরকে রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকেন। কোথাও ভবন ধসে পড়লে বা আগুনে মানুষ পুড়ে মারা গেলে কর্তৃপক্ষ লোকদেখানো কিছু তৎপরতা দেখায়। তারপর সবকিছু আগের মতো চলতে থাকে। এ সংস্কৃতি বদলাতে হবে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম বা অন্য যেখানেই হোক যে মালিকেরা নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ করছেন, তঁাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ রকম ভবন নির্মাণ না করতে পারেন, সে জন্য বাড়াতে হবে নজরদারিও।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন