default-image

বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নদী খননের খবর আমাদের কানে এসে পৌঁছাচ্ছে। এসব খবর শুনে আমাদের আনন্দিত হওয়ারই কথা। অনেক দিন থেকেই জরুরি হয়ে উঠেছিল এ খনন। কিন্তু অবিমিশ্র খুশি আমরা হতে পারছি না। কারণ, খুশির এ খবরের সঙ্গে আসছে অনিয়মের খবরও। অনিয়মের ধরনও কমবেশি একই রকম। দখল উচ্ছেদ না করেই খনন করা হচ্ছে নদ–নদী, আর পাড়েই ফেলা হচ্ছে মাটি। আমাদের যশোর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভৈরবের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে। ‘ভৈরব প্রকল্প’–এর আওতায় ৯৬ কিলোমিটার নদ খনন করা হবে। ৬৬ কিলোমিটার খননকাজ ইতিমধ্যে হয়েও গেছে।

অথচ খননের আগেই জরুরি ছিল নদের সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ। নদপারের যে অংশ বর্ষায় ডুবে যায়, তাই নদতট। ব্যক্তির কোনো অধিকার এখানে নেই। কেউ তা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অথচ দড়াটানা সেতু ও কাঠেরপুল এলাকায় নদের দুই তীরে অন্তত সাতটি বহুতল ভবন রয়েছে, যা নদতটে পড়েছে। এ ছাড়া অন্তত ৩০টি স্থাপনার অংশবিশেষ ও সীমানাপ্রাচীর নদের জায়গায় পড়েছে। এগুলোর কোনোটাই উচ্ছেদ করেনি কর্তৃপক্ষ, উচ্ছেদের কোনো উদ্যোগও তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। খননকাজ কিন্তু শুরু হয়ে গেছে। এর মধ্যেই আবার শোনা যাচ্ছে ভৈরবের দুই তীরে পায়ে হাঁটা পথসহ সৌন্দর্যবর্ধনের আরেকটি প্রকল্পের কথা। এটা হলে ষোলো কলাই পূর্ণ হয়। নতুন সীমানায় পাড় বেঁধে দেওয়ার অর্থই হচ্ছে পুরোনো দখলকে বৈধতা দেওয়া। এ সংস্কৃতি তাদের নতুন করে নদী দখলে উৎসাহিত করবে।

বিজ্ঞাপন

খননের মাটি তীরে না ফেলে নদতটের অনেক ভেতরে ফেলা হচ্ছে। এ কারণে নদ কোথাও কোথাও সরু দুটি খালে পরিণত হয়েছে। দুই তীর তো আগেই দখল ছিল, মাটি ফেলে এবার মাঝখানটাও দখলের ব্যবস্থা করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। না হলে খনন করে সেই মাটিই আবার মাঝখানে ফেলার কী যুক্তি? মাঝখানটা যে দখল হবে, সে আলামতও পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দুই খালের মাঝের জায়গায় পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো শুরু করে দিয়েছে। আর কিছুদিন গেলে এখানে একটি–দুটি করে বাড়িঘর উঠবে, বসবে দোকানপাট, সেগুলোর প্রয়োজনে একটু একটু করে বোজানো হবে নদ। আগে যেখানে দুই পাড় থেকে নদ ভরাট হচ্ছিল, মাঝখানে মাটি ফেলে এখন নদটাকে চার পাড় থেকেই ভরাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এভাবে শহরের অংশের পুরো নদটাই হয়তো ভরাট হয়ে যাবে, থেকে যাবে শুধু নামটা।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন