default-image

যাত্রীবাহী বাস সব সময় পুরো যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে, এমন না–ও হতে পারে। আবার কখনো কখনো যাত্রীর অতিরিক্ত চাপও থাকতে পারে। এসব বিবেচনায় নিয়েই বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। বাসমালিকের বিনিয়োগ ও যাত্রীর স্বার্থ, দুটোই এতে রক্ষা হয়। সরকার নির্ধারিত বাস ভাড়া মেনে চলা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। কিন্তু বাসমালিকের স্বার্থ সব সময়ের জন্য রক্ষা হলেও যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি যেন খুবই ঠুনকো। যেকোনো পরিস্থিতিতে তা ভেঙে পড়ে।

শুক্র, শনি ও একুশে ফেব্রুয়ারির তিন দিনের টানা ছুটির সুযোগে ঢাকার বাইরে গেছেন অনেকেই। ঢাকার বাইরে যাওয়া ও আসার সময় স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীর চাপ বেড়েছে। প্রথম আলোর একটি খবর বলছে, তিন দিনের ছুটি শেষে রোববার বিকেলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের কর্মস্থলে ফিরতে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ভিড় করেন। যাত্রীদের এ ভিড় দেখে সুযোগ বুঝে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ে নেমে পড়েন বাসের চালক ও মালিকেরা। এ খবরকে এক দিনের ঘটনা বা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

সুযোগ পেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়টি প্রমাণ করছে, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা কতটা অসহায়। যেকোনো পরিস্থিতিতে তাঁরা হয়রানি ও অন্যায় আচরণের শিকার হতে পারেন। প্রথম আলোর প্রতিনিধি পাটুরিয়া ঘাটে অবস্থান করে দেখতে পেয়েছেন যে সেখান থেকে ঢাকার গাবতলী পর্যন্ত সরকারনির্ধারিত ভাড়া ১০০ টাকার বদলে বাসগুলো ২০০ টাকা নিচ্ছে। মানে দ্বিগুণ! কয়েকজন বাসচালক ও সহকারী দাবি করেছেন, স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকনেতা জসিম উদ্দিন ও সুমন খান প্রতিটি বাস থেকে দেড় হাজার টাকা করে আদায় করেন। এ কারণে ভাড়া বেশি নেওয়া হয়। এ দুজন যথারীতি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু যাত্রীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়ার জন্য যে চক্রটি ওত পেতে থাকে, তারা কতটা সক্রিয় ও সংগঠিত তা টের পাওয়া যায়।

পাটুরিয়া ঘাটে যা ঘটেছে তাতে এটা পরিষ্কার যে যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি কতটা উপেক্ষিত। এ ঘটনাকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এমন কিছু ঘটতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন