বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একটি নগরীর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে তার অধীনে থাকা পুরাকীর্তিগুলোর রক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়ারই কথা ছিল। বিশ্বের অন্যান্য নগরীর ক্ষেত্রে আমরা সেটিই দেখতে পাই। কিন্তু রূপলাল হাউসকে ঘিরে যা ঘটল, তাতে ঢাকার পুরাকীর্তিগুলোর রক্ষা নিয়ে আমাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়। এমনিতেই আমাদের পুরাকীর্তিগুলোর অবস্থা নাজুক, অনেকটা রক্ষণাবেক্ষণহীন।

সেখানে খোদ রক্ষক কর্তৃপক্ষই যদি এমন ‘জাদুকরি’ কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলে, সেটি অবশ্যই উদ্বেগজনক। আরও উদ্বেগজনক হচ্ছে, চরম অনিয়মের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং তা অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও সেই অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। পুরাকীর্তি নিয়ে এসব তেলেসমাতি যেন রাজউকের কাছে তেমন কোনো ঘটনাই নয়!

ভবন নির্মাণের জন্য ভূমি ব্যবহারের অনুমতি নিতে রাজউকের কয়েকটি শাখার ছাড়পত্র লাগে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে রাজউকের জরিপকারী আশুতোষ চাকমা ও পরে ইমারত পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেন ফরাশগঞ্জের রূপলাল হাউস পরিদর্শন করেন। তাঁরা তিন দফা পরিদর্শন করে সেখানে রূপলাল হাউসের কোনো ‘অস্তিত্ব’ খুঁজে পাননি।

তবে আশুতোষ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সঠিক তথ্যই উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভুল করেছে। অন্যদিকে সাদ্দামের দাবি, রূপলাল হাউস যে ঐতিহাসিক ভবন, তা তাঁর জানা ছিল না। এ ছাড়া সেখানে নতুন ভবনের নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার জন্য ‘প্রেশারে’ ছিলেন তিনি। এ অনিয়ম জানাজানি হলে জরিপকারী ও পরিদর্শককে শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়।

২০১৮ সালে রূপলাল হাউসের সীমানার মধ্যে প্রথমে আটতলা ভবন, পরে সংশোধন করে ছয়তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় রাজউক। কিন্তু একের পর এক ধাপে রূপলাল হাউসের বিষয়টি গোপন রাখে প্রতিষ্ঠানটি। তার মানে এর সঙ্গে রাজউকের কর্মকর্তাদের একটি দুর্নীতিবাজ চক্র সরাসরিভাবে জড়িত। রাজউককে এর দায় নিতে হবে এবং জবাবদিহি করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে নগর-পরিকল্পনাবিদেরাও বলছেন, রাজউকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতির কারণেই এমনটি ঘটেছে। জেনেশুনে তথ্য গোপন করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যঁারা জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে এটা করতেই হবে।

আমরা আশা করি রূপলাল হাউসের সামনে দোতলা পর্যন্ত উঠে যাওয়া ভবনটি দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে। ঢাকার পুরাকীর্তি ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণে দায় আছে জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের। অভিযোগ আছে, রাজউকের দায়সারা মনোভাবের কারণে অন্য কর্তৃপক্ষগুলোও এসব বিষয়ের দিকে সুনজর দিতে চায় না। ফলে স্থাপনাগুলো দিন দিন ভঙ্গুর, ধ্বংসপ্রায় ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রক্ষায় রাজউকের উচিত অন্য কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন