default-image

রাজবাড়ীর জমিদার দ্বারকানাথ সাহা চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রী জ্ঞানদা সুন্দরীর সমাধিসৌধের ওপর তৈরি প্রাচীনতম দুটি মঠের একটি ধসে পড়েছে, অন্যটিরও জরাজীর্ণ অবস্থা। মঠ দুটি রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়ার মুকুন্দিয়ায় জমিদারি শাসনের ইতিহাস–ঐতিহ্য বহন করে। গত ২৯ অক্টোবর জ্ঞানদা সুন্দরীর সমাধির ওপর নির্মিত ৪০ ফুট উচ্চতার মঠটি ধসে পড়ে। ওই মঠের চারপাশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি খনন করার যে অভিযোগ রয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

দ্বারকানাথ মঠটির উচ্চতা প্রায় ১০০ ফুট, এটির বয়স প্রায় ১০৫ বছর। মঠের আশপাশে ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে মাটি খনন
করায় প্রাচীন এই মঠের ভিত দুর্বল হয়ে গেছে। জমিদার দ্বারকানাথ সাহার নামে টিকে থাকা মঠটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীর।
এলাকার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, এটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার
আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে এমন দুটি ঐতিহ্য এতকাল কারও চোখে পড়েনি কেন?

বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে প্রথম আলোয় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশভাগের পর তাঁর উত্তরসূরিরা কলকাতায় চলে যান। এরপর থেকে ওই সম্পত্তি বেহাত হয়ে যায়। মঠ দুটিও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। কিন্তু কেউ তা সংরক্ষণে এগিয়ে আসেনি।

একটি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে প্রাচীন পুরাকীর্তি ও প্রত্নসম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন মসজিদ, বৌদ্ধবিহার, মন্দির, সাধারণ বসতি, আবাসিক গৃহ, নহবতখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জমিদার প্রাসাদ অথবা রাজপ্রাসাদ, পুকুর ও দিঘি, শানবাঁধানো ঘাট, প্রস্তরলিপি, তাম্রলিপি, মুদ্রা, প্রাচীন পুঁথি, পোড়ামাটির ফলকচিত্র, পাথরের ভাস্কর্য, মৃৎপাত্র ইত্যাদি। এগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরই উদাসীন থেকেছে।

দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সমৃদ্ধ ভান্ডার আমাদের ইতিহাস বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই পুরাকীর্তি দেখভালের দায়িত্বে থাকলেও তাদের নানা সীমাবদ্ধতা আছে। দেশের ঐতিহ্যের ওপরে শুধু সরকারের নয়, দেশের মানুষেরও অধিকার আছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরাও দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। এগুলো সংরক্ষণের জন্য বাস্তবধর্মী নীতিমালা প্রণয়ন, টেকসই আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

মন্তব্য পড়ুন 0