বিজ্ঞাপন

কিন্তু রাজনীতি-ঘনিষ্ঠরা সব পক্ষের স্বার্থের মধ্যে সামঞ্জস্য সাধন করতে গিয়ে তেমন অসংগত সিদ্ধান্তই নিয়ে বসেন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের পল্লবী এলাকার অ্যাভিনিউ-৪-এর পাশে নির্মাণ করা হবে একটি ‘স্ট্রিট মার্কেট’। এর জন্য সড়কের পাশে তৈরি করা হবে পাঁচ ফুট উঁচু প্রাচীর। প্রাচীর ঘেঁষে সড়কের বিপরীত দিকে থাকবে মার্কেটের ছাউনি। ছাউনিতে ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে বসবেন। সড়কের নিউ সোসাইটি মার্কেট থেকে তালতলা মোড় পর্যন্ত কোথাও দুই পাশে, আবার কোথাও শুধু এক পাশে থাকবে মার্কেটের ছাউনি। ছাউনিতে ১০০ জনের মতো ব্যবসায়ী বসতে পারবেন।

সংখ্যায় বেশি হলে ব্যবসায়ীরা পর্যায়ক্রমে বসবেন। এ কাজ সমন্বয় করবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। যেখানে মূল সড়ক ৫২ ফুট প্রশস্ত হওয়ার কথা ছিল, ব্যবসায়ীদের ‘চাপের মুখে’ কিছু জায়গা তাঁদের জন্য ছেড়ে দেওয়ায় তা হয়ে যাচ্ছে ৪১ ফুট। সরু হয়ে যাবে সড়ক বিভাজকও।

মনে রাখা দরকার, রাস্তার একটা অংশ যদি স্ট্রিট মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দখল করেন, তবে আরও একটা অংশ অবশ্যই দখল করবে ক্রেতার দল। তার মানে পথচারীর বরাদ্দ আরও কমবে। উপরন্তু এই নীতি হকারদের রাস্তায় বসার যে বৈধতা দেবে, তাতে ফুটপাত হকারমুক্ত করার কোনো নৈতিক সুযোগই থাকবে না।

রাস্তায় ব্যবসায়ীদের জন্য স্থান নির্দিষ্ট করার অর্থ রাস্তা বা ফুটপাতের কিছু অংশের অধিকার হারাবে পথচারী। ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ের অবাধ অনুমতি পাবেন, সিটি করপোরেশন কর পাবে। এতে গতি হারাবে গাড়ি, প্রাণ হারাবে পথচারী। জীবিকার দাবিকে এভাবে জীবনের ওপরে স্থান দেওয়ার বিধান ন্যায্য হয় কোন বিবেচনায়?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন