প্রথম আলোর একটি খবরে দেখা যাচ্ছে, গাজীপুরের কাপাসিয়ার ফকির মজনু শাহ সেতুর দক্ষিণ পাশে সরাসরি পথ আটকে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করছে ‘গাজীপুর আন্তজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন’ নামের একটি সংগঠন। এ সংগঠনের ‘কর্মীরা’ এক হাতে চাঁদার রসিদ, আরেক হাতে লাঠি নিয়ে ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা থামাচ্ছেন। না থামলে ধাওয়া করে গাড়ি থামানো হচ্ছে। চলছে গালিগালাজ। টাকা না দিলে নিস্তার নেই। যতক্ষণ না টাকা মিলছে, রাস্তার ধারে নিয়ে গাড়ি আটকে রাখা হচ্ছে।

সমস্যা এড়াতে চালকেরা অবশ্য সরাসরি থানায় অভিযোগ জানাতে চান না। কারণ, সারা বছরই এ সড়ক দিয়ে তাঁদের যাতায়াত করতে হয়। এখন অভিযোগ জানিয়ে রেহাই পেলেও পরে গোলমালে জড়িয়ে পড়ার ভয় আছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় শ্রমিক সংগঠনের নামে প্রতিটি সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা থেকে ১০ থেকে ২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। সুযোগ বুঝে ৩০ টাকা বা তার বেশি নেওয়া হয়। অথচ বিআরটিসির মোটরযান পরিদর্শক বা পুলিশের উপপরিদর্শক পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা ছাড়া সড়কে তল্লাশিচৌকি বসিয়ে বা গাড়ি থামিয়ে কোনো ধরনের তল্লাশি চালানোর এখতিয়ার কারও নেই। এ আইনের ব্যত্যয় হলে শাস্তির বিধান আছে।

কাপাসিয়া থানার কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাঁদের সেই কথাকে কতটা ‘কথার কথা’ আর কতটা ‘সত্য কথা’ বলে গ্রহণ করে থাকে, তা সর্বজনবিদিত। তবে নির্জলা সত্য হলো, চালকদের জিম্মি করে সেখানে অবৈধ চাঁদা তোলা হচ্ছে। এ ছবি শুধু কাপাসিয়ায় নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ কারবার চলছে এবং পুলিশও তা ‘জানতে’ পারছে না। সামনে ঈদ। তাই মানুষের কষ্ট কমানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে তাদের এ বিষয়ে একটু বেশি জানা দরকার।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন