ডেইলি স্টার–এর এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ৬৬৭ জন স্টেশনমাস্টারের বিপরীতে আছেন ৩৫০ জন। তার মানে অনেকটা অর্ধেক স্টেশনমাস্টার দিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের স্টেশনগুলো পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সেখানকার ২২৮টি স্টেশনের মধ্যে ৪৬টিই বন্ধ এখন। এর মধ্যে আছে সীতাকুণ্ডে শত বছরের পুরোনো বাড়বকুণ্ডের মতো ঐতিহ্যবাহী স্টেশনও। এক যুগের বেশি সময় স্টেশনটি বন্ধ আছে।

এসব স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতি তো হচ্ছেই, অন্য রেল চলাচলেও অসুবিধা তৈরি হয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক নাজমুল হাসান জানান, স্টেশনগুলো চালু না থাকায় রেলওয়ের রাজস্ব আদায় কমে গিয়েছে। এ ছাড়া তদারকির অভাবে সেসব বন্ধ স্টেশনগুলোর যন্ত্রপাতি ও সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।

দেশের রেল যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের ট্রেনগুলো এসব স্টেশনে এসে গতি কমিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। স্টেশনমাস্টার না থাকার কারণে সেসব স্টেশন দিয়ে চলাচলরত ট্রেনগুলো দিকনির্দেশনা পায় না। ফলে একটি ট্রেনের যেখানে স্বাভাবিক গতি ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার থাকার কথা, সেটি নেমে যায় ঘণ্টায় ৪৮ কিলোমিটারে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলযাত্রা যেখানে পাঁচ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা সম্ভব, সেখানে লেগে যাচ্ছে আরও বেশি সময়।

একটি স্টেশন চালাতে অন্তত ১০ জন লোকবল প্রয়োজন হয়, সেখানে অনেক স্টেশন চলছে মাত্র তিন–চারজন লোক দিয়ে। এভাবে এতগুলো স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং আরও অনেক স্টেশনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়ে যাওয়া দুঃখজনক। এতে অসংখ্য যাত্রী রেলের সেবা থেকে বছরের পর বছর ধরে বঞ্চিত হচ্ছে। করা যাচ্ছে না মালামাল পরিবহন। স্টেশনগুলোকে ঘিরে যে হাজারো মানুষের পদচারণ ও নানা কর্মসংস্থান, সেগুলোও থমকে আছে।

পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নতুন লোকবল নিয়োগ শুরু হয়েছে। বন্ধ হওয়া স্টেশনগুলো ধীরে ধীরে চালু হবে। আমরা আশা করব, দ্রুত এই নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হবে। স্টেশনগুলোও দ্রুত যাত্রীদের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন