বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পথের পাঠশালার প্রধান সমন্বয়ক মো. আসাদুজ্জামান ঢাকার তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী। প্রতিশ্রুতি নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যুক্ত তিনি। এ সংগঠনের সদস্য ১৫ জন শিক্ষার্থী মিলে ছিন্নমূল শিশুদের পড়ানোর উদ্যোগ নেন। সংগঠনটির সদস্যরা মাসে ১০০ টাকা করে চাঁদা দেন। অনেকে স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেন। সেই টাকাতেই শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি খাবার এবং খাতা, কলম, বই কিনে দেওয়া হয়। শিশুদের অনেককে কিনে দেওয়া হয় জামাকাপড়ও।

সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে পথের পাঠশালায় পড়াচ্ছেন সুরাইয়া খাতুন। এ উদ্যোগে নিজেকে যুক্ত করার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, প্রতিদিন বিকেলটা শিশুদের সঙ্গে বেশ ভালো কাটছে। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর তরুণদের এই উদ্যোগকে প্রশংসা করে সেটি চালিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও পাঠশালাটি ঠিকভাবে যাতে চলতে পারে, সে জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো বিতরণে তরুণদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন নিয়ম করে শিশুদের পড়াচ্ছেন, সেটা দেখেই আনন্দে বুক ভরে যায়।

একসময় নানা ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে ছাত্র-তরুণদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। সাম্প্রতিক কালে তরুণদের নিয়ে নানা নেতিবাচক সংবাদ প্রায়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে। এর মধ্যে ঈশ্বরদীর তরুণদের ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষাদানের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁদের এ মহতী কর্মকাণ্ড দেশের অন্য তরুণদের জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে। পথের পাঠশালার কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নেওয়া যায়, এ জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন