বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পত্রিকার খবর থেকে আরও জানা যায়, ২০২২ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪ কোটির মতো শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৩৫ কোটি বই ছাপার কাজ করছে এনসিটিবি। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের মোট বই ২৪ কোটি ৭১ লাখ ৫৫ হাজার ২০২টি। আর প্রাথমিক স্তরের মোট বই প্রায় ১০ কোটি। ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ১৭ কোটি ৯১ লাখ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। তবে ছাপার পর আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে উপজেলা পর্যায়ে বই গেছে প্রায় ১২ লাখ ৯৮ লাখ।

এ অবস্থায় নতুন বছরের প্রথম দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে সমস্যা দেখা যায়। পুনঃদরপত্রের কারণে এবার ছাপার কার্যাদেশ দিতে দেরি হয়েছে বলে দাবি মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর। এনসিটিবি বলেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সময়ক্ষেপণ করেছে। বই মুদ্রণের দায়িত্ব এনসিটিবির। তাহলে তারা সেই দেরি মেনে নিল কেন?

এনসিটিবির চেয়ারম্যান আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে যাবে। কিন্তু সেই বইয়ের ছাপা কি মানসম্মত হবে? প্রতিবার শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে বই ছাপা ও সরবরাহ করতে গিয়ে ন্যূনতম মানও রক্ষা করা যায় না। অনেক সময় ছাপা অস্পষ্ট থাকে, প্রয়োজনের চেয়ে কম বা বেশি কালি দেওয়া হয়, কাগজের মানও খারাপ। এত সব খারাপ নিয়ে যে বই শিক্ষার্থীদের হাতে যায়, তা পুরো বছর রাখার মতো নয়।

বিলম্বের কারণে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এনসিটিবিকে দায়ী করছে। এনসিটিবি দায় চাপাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর। নিজের দায় অন্যের ওপর চাপানোর এই অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের হাতে ১ জানুয়ারি সব বই পৌঁছানো হোক এবং ছাপাও হতে হবে মানসম্মত।

যেসব মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান কাজ নিয়ে সময়মতো বই ছাপতে পারেনি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শর্তভঙ্গের জন্য তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে সামর্থ্যের বাইরে কাজ পেল, কারা কাজ দিল, তা-ও খতিয়ে দেখতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন