প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ১৪৩ জন। বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো সড়ক না থাকায় মানুষের বাড়ির আঙিনা ও পুকুরপাড় ধরে যাতায়াত করতে হয় তাদের। শুকনো মৌসুমে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষাকালে তা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় চারজন বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেন। জমিতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলেও সড়কের জন্য কোনো জায়গা রাখা সম্ভব হয়নি। এখন বিদ্যালয়ের চারদিকে এক ব্যক্তির জমি। তাঁর কাছে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সড়কের জন্য জমি চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে রাজি নন। শর্ত হিসেবে তাঁর মেয়েকে বিদ্যালয়ে চাকরি দিতে হবে। যদিও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ভাষ্য, জমির বিনিময়ে মেয়েকে চাকরি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জমি অধিগ্রহণের সুযোগ আছে কি না, সে বিষয়টি যাচাই করা হবে। উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় সুধী মহলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করুন। যুগের পর যুগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এমন ভোগান্তির শিকার হবে, তা মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল খিয়ারপাড়া আলিম অ্যান্ড ভোকেশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটির একটি ভবন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে এসে থামিয়ে দিয়েছেন ঠিকাদার। ফলে এমন ভোগান্তির শিকার শিক্ষক ও শিক্ষকেরা। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটিকে একটি ভবনের জন্য ২০১৯ সালে ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। সে বছরই কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ৯ মাসের মধ্যে। ভবন নির্মাণের সুবিধার্থে মাদ্রাসাটির পুরোনো টিনশেড ভবনটি ভেঙে ফেলতে হয়। ঠিকাদারের ধীরগতি বা অবহেলার ভুক্তভোগী কেন হবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা? শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয় বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন