বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সভায় গত বছর অনুষ্ঠিত গুচ্ছ পরীক্ষায় যেসব সমস্যা হয়েছিল, তার সমাধানে ভর্তি পরীক্ষা ও শিক্ষার্থীদের পছন্দ অনুযায়ী কেন্দ্রীয়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ নির্বাচন করে দেওয়া ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাইগ্রেশন শেষ করা এবং ভর্তিতে কেবল যে বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্তভাবে ভর্তি হবে সেটির জন্য টাকা নেওয়া, ভর্তি ফি যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করাসহ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরেও বিভিন্ন কলেজে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ ছাড়া গুচ্ছের বাইরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি, ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল ও ভর্তির সময় প্রকাশ করার সুপারিশ করেছে ইউজিসি।

ইউজিসির পক্ষ থেকে ভর্তি পরীক্ষার ফি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বিষয়ে আসন খালি থাকে, সেগুলোর আসনসংখ্যা কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এর আগে প্রথম আলোর খবরে বলা হয়েছিল, ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রক্রিয়াগত সমস্যার কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শূন্য আসন পূরণে বারবার বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে।

অতীতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো এবং শিক্ষার্থীদের দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে হতো। এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এ সমস্যার সমাধানে গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি ওঠে। একপর্যায়ে ইউজিসি গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। সমস্যা দেখা দেয় পরীক্ষার পর কেন্দ্রীয়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ ঠিক করে না দেওয়ায়। যদিও মেডিকেল কলেজে (পাবলিক ও বেসরকারি) ভর্তির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে তালিকা তৈরি করা হয়। ২০টি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও সেই নীতি অনুসরণ করে আসছে।

আমরা মনে করি, যে উদ্দেশ্যে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেটি সফল করতে হলে এ ক্ষেত্রেও এ নীতি অনুসরণ করতে হবে। যদি শিক্ষার্থীদের পছন্দের বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করতে ঘোরাঘুরি করতে হয়, তাহলে গুচ্ছ পরীক্ষার উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ও। এর আগে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় চাহিদামতো শিক্ষার্থী না পাওয়ায় অনেক আসন খালি ছিল। এবারও এর পুনরাবৃত্তি কাম্য হতে পারে না। আরেকটি বিষয়, করোনার কারণে ইতিমধ্যে উচ্চশিক্ষা জটের কবলে পড়েছে। এ জট যাতে আরও বেড়ে না যায়, সে জন্য গুচ্ছ বা পৃথক, যে পদ্ধতিতেই হোক না কেন যথাসম্ভব দ্রুত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া জরুরি। যত দ্রুত পরীক্ষা হবে, তত দ্রুত শিক্ষার্থীরা ভর্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পারবেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খালি থাকা আসনগুলো কমিয়ে ফেলার যে পরামর্শ ইউজিসি দিয়েছে, তা–ও আমলে নিতে হবে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা না বাড়িয়ে শিক্ষার মানের দিকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মনোযোগী হওয়া উচিত।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন