বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরকারের এ সিদ্ধান্তের পেছনে নিশ্চয়ই যুক্তি আছে। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা, যাকে কেন্দ্র করে দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। কৃষক, খামারিসহ বহু মানুষের জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। আমাদের মার্কেটগুলোতেও বেশি বেচাকেনা হয় ঈদের সময়। একটানা দুই সপ্তাহ কঠোর বিধিনিষেধ জারি থাকায় অনেকের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এটি প্রলম্বিত করা হলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। সরকার পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পেরে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।

সরকারের এ যুক্তি মেনে নিয়েও যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে তা হলো কঠোর বিধিনিষেধ যেভাবে মানুষ উপেক্ষা করে আসছিল, শিথিল বিধিনিষেধে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে? সরকার এমন সময় বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে, যখন করোনায় মানুষের মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়ছেই। এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সংখ্যা গড়ে দুই শতাধিক। রোগীর ভিড় সামলাতে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থা খুবই ভঙ্গুর। হাসপাতালে শয্যা আছে তো আইসিইউ নেই, আইসিইউ আছে তো অক্সিজেন নেই। এত সব নেইয়ের মধ্যে করোনা মহামারি রোধ করা কঠিন।

সন্দেহ নেই, বাংলাদেশ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রশ্ন হলো উত্তরণের উপায় কী? সরকার বলছে, বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সরকারের একটি দিকনির্দেশনাও আছে। কথা হলো বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে গত কঠোর বিধিনিষেধের সময় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও খুব বেশি ফল পাওয়া যায়নি। বিধিনিষেধের মধ্যেই ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কোনো কোনো সড়কে যানজট দেখা দিয়েছিল।

শুরু থেকে সরকার করোনা মহামারি এবং এর ওপর জনজীবনের যে অভিঘাত পড়েছে, তা মোকাবিলা করতে চেয়েছে প্রধানত প্রশাসনের ওপর ভর করে। আমরা মনে করি, এটি সঠিক পথ নয়। যেখানে ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল পর্যন্ত নেতা-কর্মী আছেন, সেখানে কেন তাঁদের সম্পৃক্ত করা হলো না? সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদেও সরকারের অধিকতর আমলানির্ভরতা সমালোচিত হয়েছে। একক কর্তৃক যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, আশ্রয়ণ প্রকল্পই তার প্রমাণ।

সরকার এক সপ্তাহের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করেছে এর অর্থ এই নয় যে এ সময় করোনাভাইরাস বাংলাদেশ থেকে ‘ছুটি’ নিয়ে অন্যত্র বেড়াতে যাবে। বিধিনিষেধ কঠোর বা শিথিল হোক, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। আর কাজটি যে কেবল প্রশাসন দিয়ে সম্ভব নয়, তা আগেই প্রমাণিত হয়েছে। করোনার মতো জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও সম্পৃক্ত করলে সুফল মিলবে। সেই সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, নিজে নিরাপদ থাকুন, অন্যকেও নিরাপদ থাকতে দিন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন