সারা দেশে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় দরিদ্র মানুষের, বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া রাতে ঘন কুয়াশার কারণে সড়কপথে মোটরযান চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে তীব্র শীতে যে অপ্রস্তুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তার ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম মাত্রায় রাখার জন্য সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়ে উদ্যোগ প্রয়োজন।
গত শনিবার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাপা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী দেশের উত্তরাঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। অর্থাৎ শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি যাঁদের নেই, যাঁদের বাসস্থান ও বস্ত্রের অভাব, তাঁদের জন্য শীতের দুর্ভোগ শুরু হয়েছে মাত্র। দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বেশি, উপরন্তু শীতের প্রকোপে তাঁদের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। এখন পর্যন্ত কোথাও শীতজনিত ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটার খবর পাওয়া যায়নি বটে, তবে এমন আশঙ্কা রয়েছে এবং সে জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা উচিত।
শীতের প্রকোপ বাড়ার ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে যে এক বিশেষ দুর্ভোগময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সরকারের তরফে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে না। শীতার্ত মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর সামাজিক উদ্যোগও এখন পর্যন্ত সেভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি। কিন্তু বিষয়টি জাতীয়ভাবে গুরুত্ব দাবি করে। সরকারের উচিত শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করা। বেসরকারি উদ্যোগেও এটা করা উচিত; উন্নয়ন সংস্থা, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিতে পারে। প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং তাদের এই উদ্যোগ পুরো শীতকাল ধরেই চলবে। অন্যরাও এগিয়ে আসুন।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন