বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যেসব খবর আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ইউপি নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষ হচ্ছে মূলত আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে। ১১ নভেম্বর ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যপদে নির্বাচন হওয়ার কথা। এর মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ৬৯১। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলও যে স্বস্তিতে নেই, তার প্রমাণ অনেক স্থানে কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এর আগে মাদারীপুরের বেশ কিছু ইউনিয়নে প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। সামনের নির্বাচনেও অন্তত আটজন সাংসদ প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের কাছে তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে উন্মুক্ত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে এবারের ইউপি নির্বাচন কেবল প্রশ্নবিদ্ধই হচ্ছে না, এর মূল উদ্দেশ্যও ব্যাহত হচ্ছে। দলীয় প্রতীক কিংবা উন্মুক্ত পদ্ধতি—যেভাবেই নির্বাচন হোক না কেন, তা হতে হবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। কিন্তু বিএনপিসহ অনেক দল নির্বাচন বর্জন করায় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে গেছে। যেখানে ক্ষমতাসীন দলে মনোনয়নই জয়ের শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়, সেখানে বিরোধী দলের নির্বাচন বর্জনকে দোষ দেওয়া যায় না। নির্বাচন নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও।

আমাদের দেশে স্থানীয় সরকারের ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। এর মাধ্যমে কেবল সরকারি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় না, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ক্ষমতায়নও নিশ্চিত করা হয়। অতীতে যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে হতো, তখন সংঘাত–সংঘর্ষ কম হতো। এককেন্দ্রিক বাংলাদেশের শাসনকাঠামোয় কিছুটা ক্ষমতার ভারসাম্য থাকত। অনেকের মতে, দলীয়ভাবে নির্বাচন হওয়ায় বর্তমানে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ক্ষমতাসীন দলের বর্ধিত সংস্করণে পরিণত হয়েছে।

যেকোনো নির্বাচনের উদ্দেশ্য হচ্ছে অবাধে জনগণের প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ। কিন্তু যখন সাংসদের অঙ্গুলিহেলনে ইউপি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার হয়ে যায় কিংবা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউকে বিজয়ী করার প্রবণতা দেখা যায়, তখন আর তাকে ইলেকশন না বলে সিলেকশন বলাই শ্রেয়। নির্বাচন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কে এম নূরুল হুদা কমিশন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বাকি মেয়াদে এই কমিশনের নির্বাচন পরিচালনার নৈতিক অধিকার আছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। নির্বাচন কমিশন আর কিছু না পারুক, যেখানে তারা মনে করবে সুষ্ঠু পরিবেশ নেই, সেখানে তারা নির্বাচন স্থগিত করে দিতে পারে; তাতে অন্তত প্রাণহানি ও সম্পদহানি এড়ানো যায়। দেশবাসী নিয়ম রক্ষার কিংবা সংঘাতপূর্ণ নির্বাচন চায় না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন