বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নানা কালাকানুন ও গণতন্ত্রহীনতা। আমাদের সংবিধানে সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও পূর্বাপর সরকারগুলো একের পর এক স্বাধীনতা পরিপন্থী আইন দেশবাসীর ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করার সময় সম্পাদক পরিষদ, সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সংবাদসেবীদের বিভিন্ন ফোরাম থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও আপত্তি জানানো হয়েছিল। তখন সরকারের মন্ত্রীরা বলেছিলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই আইন ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হরহামেশাই এ আইন ব্যবহার করা হচ্ছে; অজামিনযোগ্য এ আইনে অনেক সাংবাদিক এখনো কারাগারে আছেন। এ ছাড়া ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের সরকারি গোপনীয়তা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, আইসিটি ও মানহানি আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার সাংবাদিকদের ভয়ভীতির মধ্যে রাখছে। এ রকম প্রতিকূল পরিবেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা কেবল দুরূহ নয়, অসম্ভবও।

সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দোহাই হিসেবে দেশে কত শত দৈনিক ও সাপ্তাহিক প্রকাশিত হচ্ছে, কতটি নিউজ পোর্টালকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, কতটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল চালু আছে, তার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। কিন্তু তাঁরা ভুলে যান, সংখ্যা সাংবাদিকতার মান নিশ্চিত করে না। এসব গণমাধ্যমের কতটির সঙ্গে ‘গণের’ সম্পর্ক আছে, তা বিবেচনার দাবি রাখে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ব্রিফকেস ও দেয়ালভিত্তিক এসব পত্রিকা কেবল সংবাদপত্রশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, জনগণের করের অর্থেরও অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করলেও এর সহায়তায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সম্পাদক পরিষদের আলোচনা সভার বক্তাদের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে আমরাও বলতে চাই, যত প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ আসুক না কেন, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম আপন মহিমায় টিকে থাকবে, বিকশিত হবে। সংবাদমাধ্যম যদি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে পরে, তাহলে পাঠক ও দর্শকদের সমর্থন লাভেও সক্ষম হবে। কেননা, সত্য জানার আগ্রহ মানুষের চিরন্তন প্রবণতা। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের কর্ণধারদেরও এটা বুঝতে হবে যে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ নয়। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে কেবল গণতন্ত্রই বিপন্ন হয় না; রাষ্ট্রও অকার্যকর হয়ে পড়ে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন