বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম দিকে এসব মানুষের ভাতা যেত নিজ নিজ ব্যাংকের হিসাবে। পরে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, নগদ-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব ভাতা দেওয়া হবে। নীতি হিসেবে এটি ভালো। কিন্তু ভাতা দেওয়ার দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের খামখেয়ালির কারণে ভাতাভোগীদের এখনো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

প্রথম আলোর গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, গত রোববার বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্ব ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে হয়রানির প্রতিবাদে উজিরপুর উপজেলার দেড় শতাধিক সুবিধাভোগী ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সমাজসেবা অফিস ঘেরাও করেন। তাঁদের অভিযোগ, গত জানুয়ারি মাস থেকে সব ভাতাভোগীর এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) ফরম পূরণ করে নগদ (মোবাইল ব্যাংকিং সেবা) হিসাবের মাধ্যমে ভাতা গ্রহণে সংযুক্ত করা হয়। এরপর ভাতাভোগীরা উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মচারীদের সহায়তায় এমআইএস ফরম পূরণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের সহায়তায় হিসাব খোলেন। এরপরও একজনের ভাতা অন্যের হিসাবে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে এবং অনেক ভাতাভোগী বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিষয়টি নিয়ে ভাতাভোগীরা এক মাস ধরে সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তার সঙ্গে দেনদরবার করলেও তিনি প্রতিকার করেননি। বাধ্য হয়ে রোববার তাঁর অফিস ঘেরাও করেন। পরে গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সিকদার দ্রুত বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে ভাতাভোগীরা ঘেরাও প্রত্যাহার করেন। সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ অবশ্য ঘেরাওয়ের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নগদ-এর হিসাব খোলা নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে। হিসাব খোলা হয়েছে জানুয়ারি মাসে। এখন জুলাই মাস। তিনি যদি জানেনই যে হিসাব খোলা নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে, সমাধান করলেন না কেন? কেন দেড় শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিপদে ফেললেন?

হিসাব খোলা নিয়ে সমস্যা কেবল উজিরপুরে হয়েছে, তা নয়। অনেক উপজেলা সমাজসেবা অফিসেই ভাতা দেওয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। উজিরপুরে সমাজসেবা অফিসে নগদ-এর হিসাব নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রাপ্য সামান্য ভাতা নিয়ে নয়ছয় ও হয়রানি বন্ধ হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন