বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানায়, ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের নরসিংহপুরে গ্রামে স্থানীয় বাজার থেকে উদ্ধার করা হয় ৯৫ বছর বয়সী মরিয়ম বেগমকে। তাঁর ছয় ছেলে। সবাই প্রতিষ্ঠিত। তাঁদের মধ্যে একজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা, দুজন ব্যবসায়ী, একজন চিকিৎসক বিসিএস ক্যাডার। একজন দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। দুই মেয়ে থাকলেও তাঁরা আর্থিকভাবে সচ্ছল নন। ২০০০ সালে স্বামী আবদুস সালামের মৃত্যুর পর এক সন্তানের সঙ্গেই থাকতে শুরু করেন মরিয়ম। সেই সন্তানকে কিছু জায়গা–জমি লিখে দেওয়ায় অন্য সন্তানেরা রাগ করেন। এর পর থেকেই তাঁরা মায়ের দায়িত্ব নেওয়া প্রায় ছেড়েই দেন। সন্তানদের এমন অবহেলা কি কখনো কাম্য ছিল মরিয়ম বেগমের? তিনি বলছেন, ‘আমি কী করলাম! অনেক সম্পদ ছিল। পোলাহানরে আমি ভাত দেই নাই? এহন আমারে ভাত দেয় না। আমারে ভাত দিব না কেন?’

এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মরিয়ম বেগমের দায়িত্ব নেন তিন ছেলে। দেরিতে হলেও শুভবুদ্ধি হওয়ায় ধন্যবাদ জানাই। সন্তানদের ঘরে আশ্রয় না পেয়ে মা-বাবা রাস্তায়—কিছুদিন আগেও এমন এক ঘটনা বেশ আলোচিত হয়েছিল। সন্তানেরা কেউ দায়িত্ব নিতে না চাইলে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি সুরাহা করে। মহামারিতে আমরা আমাদের অনেক বয়স্কদের হারিয়েছি। করোনায় আক্রান্ত মা-বাবাদের বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন সন্তানেরা। আবার মাকে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছিল সন্তান, এ খবরও আমরা পাই। মহামারি–পরবর্তী বদলে গেছে গোটা দুনিয়া। সমাজ-পরিবারে নানা প্রভাব পড়েছে। সেখানে বয়স্কদের আরও বেশি যত্নবান ও আন্তরিক হওয়া দরকার। তাঁদের আগলে রাখার বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকাই কাম্য।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন