বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বরগুনা অঞ্চলে প্রায় ২২ হাজার জেলে সমুদ্রে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের মধ্যে নিবন্ধিত জেলেই আছেন ১৬ হাজার। সহায়সম্পদ নিয়ে তাঁরা তরঙ্গসংকুল সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলেও সবাই অক্ষত ফিরে আসতে পারেন না। গত রোববার বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলে ও মৎস্যজীবী সমিতির নেতারা নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, বছর তিনেক আগেও সুন্দরবন এলাকায় ৩৫ থেকে ৪০টি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় ছিল। র‌্যাবের অভিযানে প্রায় সব জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছিল স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে। এর আগে জলদস্যুরা মাছ ধরার ট্রলার লুটপাট করলেও জেলেদের জিম্মি করত না। এখন দক্ষিণ সুদান উপকূলের জলদস্যুদের মতো তারা মুক্তিপণ আদায় করছে।

মতবিনিময় সভায় মৎস্যজীবী সমিতির একজন নেতা বলেছেন, ‘নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমাদের জেলেরা গভীর সমুদ্রে যেতে পারেন না। অথচ আমাদের জলসীমায় ঢুকে ভারতীয় জেলেরা মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন।’ সভায় জেলেরা আশ্বস্ত হতে পারেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন কিছু বলা হয়নি। একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অন্যদিকে কোস্টগার্ড কর্মকর্তার বক্তব্য ছিল, গভীর সমুদ্রে অভিযান চালানোর মতো জাহাজ নেই। যদি গভীর সমুদ্রে যাওয়ার মতো নৌযানই কোস্টগার্ডের না থাকে, তাহলে তারা জেলেদের নিরাপত্তা দেবে কীভাবে?

বাংলাদেশ দুভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের জেলেরা গভীর সমুদ্র যেতে পারছেন না জলদস্যুর ভয়ে। আবার অন্য দেশের জেলেরা এসে বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরে যাচ্ছেন। এটি কোনোভাবে মানা যায় না। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের জলসীমায় কোস্টগার্ডের টহল আরও জোরদার করতে হবে। আমাদের সমুদ্রসীমাকে অবশ্যই জলদস্যুমুক্ত রাখতে হবে। যে জেলে জলদস্যুদের হাতে খুন হয়েছেন, তাঁর পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; যদিও মানুষের জীবনের কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না। সবশেষে বলব, যে জেলেরা আমাদের আমিষের চাহিদার বড় অংশ মেটান, তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন