১৯৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স আইনের আওতায় দেশের সংবাদপত্রগুলো পরিচালিত হলেও বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতার পরিচালনার জন্য অনুরূপ কোনো আইন নেই। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বেসরকারি বেতার-টিভি পরিচালনার জন্য একটি সম্প্রচার আইনের তাগিদ দিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু সরকার আইন না করে বেসরকারি বেতার ও টিভির জন্য একটি সম্প্রচার নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে, যা আজকের মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হওয়ার কথা। এ ব্যাপারে অংশীজনের মতামত নেওয়া হলেও নীতিমালায় তার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। নীতিমালা অনুযায়ী বিচারিক ক্ষমতা আছে এমন সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন ছবি ও বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। জেলা প্রশাসকদের বিচারিক ক্ষমতা আছে। তাঁদের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড প্রচার করলেও তা নীতিমালাবহির্ভূত হবে। কী ভয়ংকর কথা!
নীতিমালায় যে বিভ্রান্তিকর, অসত্য তথ্য-উপাত্ত পরিহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কারোরই আপত্তি থাকার কথা নয়। আপত্তি থাকবে না দেশবিরোধী ও জনস্বার্থবিরোধী বক্তব্য প্রচার না করার বিষয়েও। কিন্তু বেসরকারি বেতার–টিভিতে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের ভাষণ ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান প্রচার বাধ্যতামূলক করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এ রকম বিধান নেই। সরকার বেআইনি কিছু প্রচারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, কোনো কিছু প্রচারের জন্য চাপ দিতে পারে না। নীতিমালায় সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ বা অবমাননাকর দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার না করার কথা বলা হয়েছে। এটি কোনো প্রতিষ্ঠানকে আগাম ইনডেমনিটি দেওয়ারই শামিল বলেই মনে করি। আর প্রতিষ্ঠান ও সেখানে কর্মরত ব্যক্তির মধ্যে ফারাকই বা করা যাবে কীভাবে?
নীতিমালায় একটি সম্প্রচার কমিশন গঠনের কথাও বলা হয়েছে। সেই কমিশন কীভাবে গঠিত হবে, কমিশনের সদস্য কারা হবেন, কমিশনের এখতিয়ার কী হবে—সেগুলোও জানা জরুরি। সব মিলিয়ে সরকার বেসরকারি বেতার–টিভির হাত-পা বেঁধে দেওয়ার জন্য যে নীতিমালাটি করতে যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0