default-image

সরকারি জমি বা সম্পত্তি নিয়ে সম্ভবত যা খুশি তাই করা যায় এবং সেটা যাঁদের দেখার কথা, তাঁরা চোখ বন্ধ করেই রাখেন। ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ইজারা নেওয়া জমির পুকুর ভরাট করে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, ভরাট করা স্থানে দোকান নির্মাণের জন্য প্লট বিক্রি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন বেআইনি কাজ কীভাবে চলে?

বালু ফেলে ভরাট করা পুকুরের ছবি প্রথম আলো পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কাজটি গোপনে বা সবার অগোচরে হয়েছে এমন নয়। এ কাজের উদ্যোক্তা হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন। তিনি পুকুর ভরাট করার যুক্তি দিয়ে বলেছেন, এলাকার লোকজনের চলাচলের সুবিধার জন্য এটা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন অবশ্য তাঁর এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন। ইজারা নেওয়া পুকুরটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এবং স্থানীয় পেশকারহাট বাজারের পেছনে। সেখানকার হাটবাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি বলেছেন, বাজারে আসা লোকজন পুকুরটি ব্যবহার করত এবং সেখানে মাছের চাষ হতো। পুকুরটি যেহেতু পানির উৎস, তাই পুকুরটি ভরাট করার ফলে ভবিষ্যতে কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে এলাকায় পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

এটা অনেকটাই পরিষ্কার যে পুকুরটি ভরাটের পেছনে এলাকাবাসীর স্বার্থ নয়, বরং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত স্বার্থ কাজ করছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ভরাট করা জমি প্লট আকারে বিক্রির পরিকল্পনা চলছে এবং প্রতিটি প্লটের জন্য তিন লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে। অথচ ইজারা দেওয়া জমিতে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই।

এসব অনিয়ম ও বেআইনি কাজ যঁাদের দেখার কথা, সেই উপজেলা পরিষদের এসব দিকে কোনো নজর আছে বলে মনে হয় না। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেছেন, ওই জমির ধরন ছিল নাল (চাষযোগ্য)। সেখানে পুকুর কাটা হয়েছিল। সেই পুকুর আবার ভরাট করা হয়েছে। দুটোই বেআইনি। আমাদের প্রশ্ন, আগে যাদের ইজারা দেওয়া হয়েছিল, তারা চাষযোগ্য জমিতে পুকুর কেটেছিল কীভাবে? তখন উপজেলা পরিষদ কী করেছিল? আর এখনই বা তা ভরাট হলো কীভাবে? এ দুটো বেআইনি কাজের দায় উপজেলা পরিষদকে নিতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি পুকুর ভরাট ও সেই জমি প্লট করে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠায় তদন্ত করে এ ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন