বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কাগজে–কলমে তাঁরা এই জমির মালিক না হলেও এই জমির ফসলের ওপর তাঁদের জীবন–জীবিকা অনেকখানি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতার মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা) ওই জমিতে ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সাঁওতালরা বলছেন, এতে তাঁরা তিন ফসলি জমি হারাবেন। এতে অনেককে না খেয়ে থাকতে হবে। সরকারের দিক থেকে বলা হচ্ছে, এখানে ইপিজেড নির্মিত হলে অসংখ্য শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। এখানে দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেখানে সাঁওতালদেরও কর্মসংস্থান হবে এবং এ ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এই জমিতে আন্দোলনরত সাঁওতালদের প্রচলিত আইনগত অধিকার প্রমাণ করার সুযোগ হয়তো নেই। কারণ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে জমিতে তারা বসবাস করে আসছে, তার দলিলপত্র বা কাগজ তৈরির কথা এই প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর বিবেচনার মধ্যেই নেই। কিন্তু শুধু আইনগত থেকে সাঁওতালদের বিষয়টি দেখলে হবে না। যে ভূমির ওপর নির্ভর করে তাদের জীবন-জীবিকা চলে, সেখান থেকে তাদের কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়া উৎখাত করা যাবে না। আর জমিগুলো যেহেতু তিন ফসলি, সেহেতু এখানে ইপিজেড নির্মাণ দীর্ঘ মেয়াদে ভালো হচ্ছে কি না তা পর্যালোচনা করা দরকার। আসল কথা হচ্ছে সাঁওতালদের স্বার্থ নিশ্চিত ও তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা ছাড়া একতরফাভাবে কিছু করার সুযোগ নেই। আমরা আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তব বিবেচনা বোধের পরিচয় দেবে। এ নিয়ে কোনো ধরনের সংঘাত-সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন