কোনো সাংসদ যখন তাঁর এলাকায় দুষ্কৃতকারীদের গণপিটুনিতে মেরে ফেলার হুকুম জারি করেন, তখন বুঝতে হবে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কি তা মনে করে? তাঁর বক্তব্যে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আইনের শাসনের বদলে মাদকসেবী, সন্ত্রাসী তথা দুষ্কৃতকারীরাই দৌরাত্ম্য চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিশ্চয়ই এক দিনে তৈরি হয়নি।

আমাদের জানা দরকার, দুষ্কৃতকারীদের গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগে তিনি আদৌ কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন কি? সাংসদ হিসেবে তাঁর সামনে পথ ছিল এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। সেখানেও কাজ না হলে প্রধানমন্ত্রীকেও নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা সমস্যার কথা বলতে পারতেন। সেসব পথে না গিয়ে তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন।

কেবল এম ইব্রাহিম নন, আরও অনেক সাংসদের কথাবার্তা ও আচরণে মনে হয় আইনের শাসনের প্রতি তাঁদের ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ নেই। বরগুনা-২ আসনের সাংসদ হাচানুর রহমান তাঁর কথা অমান্য করে আদালতে মামলা করায় বাদীকে আদালতের বারান্দা থেকে ধরে এনে মারধর করেছেন। গত মাসে সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান ওরফে বদি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভায় দলের লোকজনকে মারধর করেছেন। এ ধরনের মানসিকতার লোকজন কীভাবে সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পান, তা সত্যিই বিস্ময়ের।

এটা পরিষ্কার যে একজন সাংসদ যখন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন, তখন বুঝতে হবে তিনি এর পরিণতি বা ভয়াবহতা বুঝতে অক্ষম। সেই বিবেচনায় তিনি সাংসদ হওয়ার যোগ্যতা রাখেন কি? সাংসদের জানা দরকার, গণপিটুনি দিয়ে কোনো দেশে অপরাধ দমন করা যায় না। এ ধরনের পরিস্থিতি একমাত্র জঙ্গলেই সম্ভব, সভ্য দেশে নয়।

সাংসদ ইব্রাহিমের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি দলের সাংসদ না হয়ে অন্য কারও এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার পরিণতি কী হতো, সেটা আমরা অনুমান করতে পারি। সরকারি দলের সাংসদ বলে তিনি কি আইনের ঊর্ধ্বে থেকে যাবেন? যে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি সাংসদ হয়েছেন, সেই দল ও সরকারের তরফে আমরা ব্যাখ্যা দাবি করছি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন