default-image

সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তথা দুস্থ, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধ মানুষকে সহায়তা করার জন্য সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় যে মাসিক ভাতা চালু করেছিল, সব মহলেই তা প্রশংসিত হয়। কিন্তু সরকারি আরও অনেক কর্মসূচির মতো এ ক্ষেত্রেও তালিকায় নয়ছয় বন্ধ করা যায়নি। যাঁরা ভাতা পাওয়ার যোগ্য, তঁাদের বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেক অযোগ্য ব্যক্তিকে।

গত শনিবার সরকারি প্রতিবেদনের বরাতে প্রথম আলোর খবরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের (এনএসএসএস) মধ্যবর্তী উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, যোগ্য না হয়েও ভাতা নিচ্ছেন ৪৬ শতাংশ। আর বয়স্ক ভাতায় শর্ত পূরণ করেননি ৫৯ শতাংশ। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতায় অনিয়ম ধরা পড়েছে ২৩ শতাংশ। ভিজিডির ক্ষেত্রে ভূমিহীন বা সামান্য ভূমির অধিকারী হওয়ার শর্ত পূরণ করে না ৪৭ শতাংশ, ভিজিএফের ক্ষেত্রে ৫৪ শতাংশ। দরিদ্র না হয়েও ৫৮ শতাংশের ত্রাণসামগ্রী না পাওয়ারও কোনো সদুত্তর নেই। প্রথম আলোর প্রতিবেদক উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, পাকা বাড়ি ও কিন্ডারগার্টেনের মালিক, দুই ছেলে বিদেশে চাকরি করেন, এমন সচ্ছল ব্যক্তিও দুস্থ ভাতা পাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এসব তালিকা তৈরি করে থাকেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তথা ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। একজন ইউপি সদস্য বলেছেন, ‘সামনে যাঁকে পেয়েছি, তাঁকেই দিয়েছি।’ আরেকজন সদস্য বলেছেন, ‘চেয়ারম্যান আমার ওয়ার্ডের লোককে বাদ দিয়েছেন বলে উপজেলা চেয়ারম্যানকে বলে কার্ড আদায় করেছি।’ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ স্বেচ্ছাচারিতা ও পাল্টাপাল্টিতে একটি মহৎ কর্মসূচি ভন্ডুল হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে অনিয়মের কথা বলা হলেও এসব নির্জলা দুর্নীতি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ২৬ লাখ পরিবারের ১ কোটি ৭ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচ থেকে ওপরে তুলে আনা। যঁাদের কারণে কর্মসূচি সফল হলো না, তাঁদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

ময়মনসিংহের কয়েকটি এলাকায় অনলাইনে সরকারি সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সুফল পাওয়া গেছে। সারা দেশেই অনলাইন চালু করতে পারলে এ খাতে চুরি-দুর্নীতি অনেকাংশে কমবে। প্রতিবছর তালিকা হালনাগাদ করা জরুরি। ‘অযোগ্য ব্যক্তিদের’ বাদ দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে দুস্থ ব্যক্তিদেরই তালিকাভুক্ত করা হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন