আলোচনায় বসুন, রক্তপাত বন্ধ হোক

সিরিয়ায় পাশ্চাত্যের হামলা

বিজ্ঞাপন
default-image

শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে সিরিয়ায় যে মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে, তা এই পশ্চিমা মিত্রজোটের সামরিক ও রাজনৈতিক দম্ভের প্রদর্শনী বই কিছু নয়। সিরিয়া একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, সেখানে এভাবে সামরিক আক্রমণ চালানো আন্তর্জাতিক আইনকানুন ও রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন। শুধু তা–ই নয়, এই আক্রমণের ফলে বৈশ্বিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে; স্নায়ুযুদ্ধের পরিবেশ প্রকট হয়ে উঠেছে।
এই আক্রমণের যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, সিরিয়ার বাশার আল–আসাদের সরকারি বাহিনী নিষিদ্ধ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে; বাশারের রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কারখানা ও মজুত ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। কিন্তু রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তা ছাড়া, এ রকম আন্তর্জাতিক সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। এই আক্রমণে শরিক হওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে নিজের দেশেই তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন, কারণ তিনি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের অনুমোদন গ্রহণ করেননি।
সিরিয়ার ওপর এই যৌথ হামলার বিশেষ উদ্বেগজনক দিক হলো, এর ফলে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা জোটের সম্পর্কের আরও অবনতি। প্রেসিডেন্ট পুতিন অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে এই হামলার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন; তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের ইতিমধ্যেই বেশ অবনতি ঘটেছে। এই ঘটনায় তা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকট হয়ে উঠল। এটা উদ্বেগজনক এই কারণে যে সিরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার এক চুক্তির আওতায় বাশার সরকারের আমন্ত্রণে দেশটিতে কয়েক হাজার রুশ সেনা মোতায়েন রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতির কারণ হতে পারে।
সিরিয়ায় আত্মঘাতী গৃহযুদ্ধ চলছে সাত বছর ধরে। ৪ লাখের বেশি মানুষ ইতিমধ্যে নিহত হয়েছে, ১২ থেকে ১৫ লাখ মানুষ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারিয়েছে, ৫০ লাখের বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত ও স্থানান্তরিত হয়েছে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ। প্রায় পুরো দেশটাই এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই যুদ্ধ চলছে প্রধানত বাশার আল–আসাদের সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে; অনেকগুলো বিদ্রোহী গোষ্ঠী পৃথক ও জোটবদ্ধভাবে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে। কিন্তু সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলো, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক ইত্যাদি বহিঃশক্তির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। সিরিয়া ও তার জনগণ দুর্ভাগ্যজনকভাবে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার মর্মান্তিক শিকারে পরিণত হয়েছে।
সিরিয়ার জনগণকে এই বিভীষিকা থেকে মুক্ত করা বিশ্বমানবতার কর্তব্য। সামরিক পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হবে না; আলোচনার টেবিলে শান্তিপূর্ণ উপায় খুঁজতে হবে। আমরা সব পক্ষের প্রতি আলোচনায় বসার আহ্বান জানাই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন