বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাস্ক বা হেলমেট ব্যবহার করেও ধুলামুক্ত বিশুদ্ধ বাতাসের নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। সড়কের ধুলার মিহি আস্তরণে ঢেকে যাচ্ছে নাগরিকের পরিচ্ছদ ও কাপড়। সামনে শুষ্ক মৌসুম। তাই দুর্ভোগ আরও বাড়বে। ধুলাদূষণের অন্যতম কারণ উন্নয়নকাজ তথা রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। আম্বরখানা-শাহি ঈদগাহ, নাইওরপুল-টিলাগড় সড়ক, লামাবাজার-জিন্দাবাজার সড়কের পাশে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের কাজ চলছে। সড়কের পাশে তুলে রাখা হয়েছে খোঁড়াখুঁড়ি করা মাটি। এতে সড়কে চলাচল করা যানবাহনের চাকায় এসব মাটি লেগে উড়ছে।

এক বছর ধরে ভাঙাচোরা সড়কে ধুলাবালুর কারণে মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ধুলাবালুর কারণে শহরের কিছু কিছু বিপণিবিতান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। ধুলার হাত থেকে বাঁচতে অনেক ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে প্রতিদিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে কয়েক দফা পানি ছিটিয়ে দেন। তাতে ধুলা খানিকক্ষণের জন্য কাদা হয়ে যায়। তাতে ভোগান্তি বাড়ে বৈ কমে না। ধুলার কারণে মানবশরীর যে কত বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। ধীরে ধীরে এ দূষণ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যেতে পারে। ধুলাবালু শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করে ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগে আক্রান্তের আশঙ্কা বেড়ে যায়। যাঁদের অ্যালার্জি ও অ্যাজমা রয়েছে, তাঁদের গুরুতর সমস্যা হয়। এ ক্ষতির বিষয়কে কর্তৃপক্ষের আমলে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সড়কগুলোয় পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।
ধুলাদূষণকে সহনীয় মাত্রায় আনতে হলে ধুলার উৎসের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। মূলত শহরে নালাসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলায় ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে। সে কারণে ধুলা সৃষ্টির পথ বন্ধ করতে এ উন্নয়নকাজগুলো যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হবে। যত দিন কাজ শেষ না হচ্ছে, তত দিন রাস্তায় সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে নিয়মিত ভিত্তিতে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা দরকার।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন