বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অভিযান-১০-এর দুর্ঘটনার পর মামলা হয়েছে। মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, লঞ্চের চালকসহ দুই কর্মী আত্মসমর্পণ করেছেন। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে নিহত যাত্রীদের দাফন করার জন্য যে সামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা, তা–ও সবাই পাননি। অনেকে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কেন এমনটি হবে? প্রশাসন কি স্বজনহারা মানুষগুলোর প্রতি আরেকটু মানবিক আচরণ করতে পারে না? দুর্ঘটনার জন্য লঞ্চের মালিক ও শ্রমিকেরা দায়ী, সন্দেহ নেই। তাঁদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। কিন্তু যাঁরা লঞ্চে কোনো সমস্যা নেই বলে ঢালাও সনদ দিয়েছেন, যাঁরা বছরের পর অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতা অগ্রাহ্য করে গেছেন, তাঁরাও দায় এড়াতে পারেন না। জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

অভিযান-১০-এ আগুনে পুড়ে যে এতগুলো মানুষ মারা গেল, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। অনেকেই বলছেন, কাঠামোগত হত্যা। আর কাঠামোগত হত্যা যেখানে ঘটে, সেখানে দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। সড়কে কিংবা নৌপথে মালিক-শ্রমিকদের এ স্বেচ্ছাচারিতা চলতে দেওয়া যায় না। এমভি অভিযান-১০-এ যে মানুষগুলো আগুনে পুড়ে মারা গেছেন, আমরা কখনো তাঁদের ফেরত পাব না। কিন্তু দায়ী ব্যক্তিদের বিচার হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা রোধ করা অসম্ভব নয়।

আমরা আশা করব, আদালতের নির্দেশ মেনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবেন, নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। অগ্নিকাণ্ডের জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের শাস্তির আওতায় আনতেই হবে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ আইন অমান্য বা উপেক্ষা করে লঞ্চ নদীতে না নামাতে পারেন, সেই নিশ্চয়তাও কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন