সমাজে পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির বিকল্প নেই, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। এ লক্ষ্যে ‘তথ্য আপা’ গ্রামে ঘরে ঘরে নারীদের কাছে যাচ্ছেন, তাঁদের নানা সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এমনটি দেখতে পেলাম আমরা। সেখানে তিনজন তথ্য আপা ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের কাছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক ঘটনা।
বাংলাদেশের গ্রামের অসহায়, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত কিংবা কম সুবিধাপ্রাপ্ত নারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং তাঁদের তথ্যপ্রযুক্তির সেবা প্রদান নিঃসন্দেহে নারীর ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করবে। এ লক্ষ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি গৃহীত হয়। প্রথম পর্যায়ে ২০১১-১৫ সাল পর্যন্ত ১৩টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেও এ নিয়ে ছিল নানা অসন্তুষ্টি। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পটির মেয়াদ চলবে ২০২৩ সাল পর্যন্ত। ৫০০ কোটির বেশি টাকায় প্রায় ৫৫০ জনবল নিয়ে ৪৯২টি উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বাগমারা উপজেলার অনেক নারী তথ্য আপাদের বিভিন্ন সেবা ও পরামর্শের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সেখানে সাবিনা খাতুন, আত্তারুন নাসরিন ও রেশমা সুলতানা নামের তিন তথ্য আপা নারীদের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছেন। ডলি বেগম নামের এক প্রতিবন্ধী নারী তথ্য আপাদের সহযোগিতা পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পেয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতাল সমাজসেবার মাধ্যমে বিনা মূল্যে ওষুধও পাচ্ছেন তিনি। ছাত্রীদের বিনা মূল্যে অনলাইনে চাকরির আবেদন করে দিচ্ছেন তথ্য আপারা। তথ্য আপাদের পরামর্শ নিয়ে অনেক নারী নানা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
বাগমারায় প্রতি মাসে উঠান বৈঠক করে ৭০০ থেকে ৮০০ নারীকে বিভিন্ন রকম সেবা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন তথ্য আপারা। সরকারি প্রকল্পের খবর, তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ছাড়াও বিনা মূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষাসহ প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খোন্দকার মাক্বামাম মাহমুদা প্রথম আলোকে বলেন, তিন তথ্য আপার কর্মকাণ্ড বাগমারার অনেকের নজরে এসেছে। তথ্য আপারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে নারীদের সেবা দিচ্ছেন। তাঁর পরিচিত অনেকেই তথ্য আপাদের মাধ্যমে সেবা নিয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজে নারীদের স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তিনি। সারা দেশে যেসব তথ্য আপা এভাবে নারীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের সাধুবাদ রইল।