বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজুর মোটরসাইকেলের ব্যবসা ছিল। এর আড়ালে তিনি সীমান্তে মাদক ব্যবসা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও আছে। রাজু যদি মোটরসাইকেল ব্যবসার আড়ালে মাদকের কারবার করে থাকেন, তাহলে সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার খুন হওয়ার আগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিল না কেন?

উল্লেখ্য, সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে ভারতীয় সীমান্তবর্তী কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইলসংলগ্ন হায়দারাবাদনগর এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাঁর মধ্যে রাজুসহ দুজন এজাহারভুক্ত আসামি। তদন্তকালে হত্যা মামলার প্রধান আসামির বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনাটি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে যদি আসামিকে নিয়ে অকুস্থলে যেতেও হয়, কেন সন্ত্রাসীদের হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হলো না? অতীতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের কাহিনি প্রচার করেছে, যা কারও কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।

আমরা সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকারসহ সব হত্যা মামলার বিচার চাই। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাই। তাই বলে বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারের আগেই কারও বিচার হওয়া কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না। কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনহার বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার পর দেশব্যাপী প্রতিবাদ হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে সিনহা হত্যা মামলার বিচারে প্রমাণিত হয়েছে যে এটি বন্দুকযুদ্ধ ছিল না। ছিল ঠান্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড। সেই ঘটনার পর দীর্ঘদিন কথিত বন্দুকযুদ্ধে আসামি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কুমিল্লায় সাংবাদিক হত্যার প্রধান আসামির বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার মাধ্যমে সরকার সেই ধারা আবার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। বন্দুকযুদ্ধে আসামি নিহত হওয়ার ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা নয়, আইনের শাসনেরও পরিপন্থী।

রাজুর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন