বিজ্ঞাপন

সরকার প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিল, পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিরা টিকা পাবেন। পরে বয়সসীমা ৪০ বছর এবং সর্বশেষ ৩৫ বছর করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ভবিষ্যতে ১৮ বছরের ওপরে সবাই টিকা পাবেন। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জনসংখ্যার ৮০ শতাংশকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। সে ক্ষেত্রে টিকার প্রয়োজন হবে ২৬ কোটি ডোজ। সেপ্টেম্বর নাগাদ যদি দুই কোটি ডোজ আসে, তা-ও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

তাই সরকারকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এরই কিঞ্চিৎ সুখবর হলো, ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, ভারতে করোনার সংক্রমণ কমেছে। এ অবস্থায় সেখান থেকে কেনা টিকা পাওয়ার বিষয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আমরা মনে করি, টিকা কেনার বিষয়ে যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে, ভারত সরকার বা সেরাম ইনস্টিটিউট তা থেকে সরে যেতে পারে না। আমরা আশা করব চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ তার টিকা পাবে।

টিকা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা হলো টিকা দেওয়ার ব্যবস্থাপনা। প্রথম দফায় ছোটখাটো ত্রুটি ছাড়া টিকা কর্মসূচি মোটামুটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় এসে বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু কিছু বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর কারণ টিকার মজুত ছিল খুবই কম। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ টিকা পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সবাই চেষ্টা করছেন আগে পাওয়ার। সে ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টিকা এলে সংকট কমে আসবে। সরকার তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার থেকে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদেরও যত দ্রুত সম্ভব দিতে হবে।

টিকা করোনার প্রধান প্রতিষেধক হওয়া সত্ত্বেও আমাদের স্বাস্থ্যবিধির কথা ভুলে গেলে চলবে না। ঘরের বাইরে গেলে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে যাঁরা বাড়ি যাচ্ছেন, যাঁরা কোরবানির পশু কেনাবেচা করছেন, বাজারে যাচ্ছেন; তাঁদের এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আপনি যেমন নিজে বিপদে পড়বেন, অন্যকেও বিপদে ফেলবেন, যা কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন