প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার কোটচাঁদপুর পৌরসভার টোল আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত হন। কোটচাঁদপুর শহরের চৌগাছা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও দুই তরুণ গুরুতর আহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন কোটচাঁদপুর শহরের তালমিল পাড়ার ফিরোজ হোসেনের ছেলে জীবন হোসেন (২২) এবং কোটচাঁদপুর এলাঙ্গী গ্রামের আবু তালেবের ছেলে আক্তার হোসেন (২৩)। এ ঘটনায় ইমন হোসেন ও কামাল হোসেন নামের দুই তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, চৌগাছা বাসস্ট্যান্ড দিয়ে শহরে প্রবেশের সময় ছোট ছোট যানবাহন থেকে পৌরসভার টোল আদায় করা হয়। প্রতিদিনের মতো ইমন হোসেন ও তাঁর সঙ্গীরা ওই টোল আদায় করছিলেন। সকাল ১০টার দিকে প্রতিপক্ষ একটি দল সেখানে টোল আদায়ে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ইমন ও তাঁর সহযোগীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশকারী যানবাহন থেকে টোল আদায় করে আসছিলেন মেয়র সহিদুজ্জামান সেলিমের সমর্থকেরা। মাসখানেক আগে একটি গ্রুপ সেখান থেকে বেরিয়ে যোগ দেয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলীর গ্রুপে।

নেতৃত্ব নিয়ে দলে মতভেদ থাকবে। কিন্তু সেই মতভেদ প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নেবে কেন? কোটচাঁদপুরের আওয়ামী লীগের বিরোধের আরেকটি কারণ বিগত পৌরসভা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন শাহজাহান আলী। সহিদুজ্জামান সেলিম দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়ী হন। এ জন্য তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল।

কেবল কোটচাঁদপুর নয়, সারা দেশেই ক্ষমতাসীন দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট। আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করছেন, তাঁরা ঘর গুছিয়ে বছরের শেষ নাগাদ দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন করবেন। এসব কি দল গোছানোর নমুনা! প্রায় প্রতিটি স্থানে দুই বা তার বেশি গ্রুপ। প্রত্যেক নেতা নিজের দল ভারী করতে প্রতিপক্ষকে দমনের চেষ্টা চালান। অনেক সময় থানা-পুলিশের জন্যও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেও ক্ষমতাসীন দলের কোনো না কোনো পক্ষ বাধা দেয়। যে দলটির নেতৃত্ব নিজেদের গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী বলে দাবি করেন, সেই দলটি ঘরে ঘরে ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্বে কেন লিপ্ত হলো? আর কত প্রাণ গেলে নেতৃত্বের হুঁশ ফিরে আসবে?

আমরা কোটচাঁদপুরে জোড়া খুনের আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন