বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গৃহস্থালি কাজে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ব্যবহার করা গেলেও সুপেয় পানির সংকট চরম আকার ধারণ করেছে লাটিয়ামারি চরে। পান করার পানি জোগাড় করার জন্য এখানকার বাসিন্দারা প্রতিদিন দুই বেলা বালতি, কলসি ও নানা পাত্র নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছোটাছুটি করছেন। পুরোনো চারটি নলকূপ থাকলেও সেগুলো থেকে পানি ওঠে না। ঘর হস্তান্তরের সময় এখানে কোনো নলকূপ বসানো হয়নি। উপজেলা সদর থেকে নলকূপ বসানোর মিস্ত্রিরা এলেও পানির অভাবে কাজ করতে না পেরে ফিরে গেছেন।

গৃহস্থালি পানি সংগ্রহ করার জন্য ধু ধু বালুচর মাড়িয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে যেতে হয়। পানির অভাবে বেশি কষ্টে আছেন বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও শিশুরা। একজন বাসিন্দা বলছেন, ‘আমরা যারা এ আশ্রয়ণে বসবাস করি, তারা সবাই মূর্খ। কোথায় কার কাছে গিয়ে আমাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরব, তা জানি না। তাই পানির অভাবে আমরা কষ্ট করে যাচ্ছি। অনেক সময় পিপাসাকাতর শিশুরা অপরিষ্কার পানি পান করে অসুস্থ হচ্ছে।’

ওই এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে বলে জানাচ্ছেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী। সে জন্য নলকূপ বসাতে সমস্যা হচ্ছে। যদিও প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেখানে একটি নলকূপ বসানো হয়েছে। কিন্তু গোটা চরের পানিসংকট মেটাতে একটি নলকূপ কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। পানিসংকট পুরোপুরি নিরসনের পদক্ষেপ নিন। অন্যদিকে ওই প্রকল্পের পেছনে ব্রহ্মপুত্র নদের ঢালের পুরোটাজুড়ে প্রতিরক্ষাদেয়াল নির্মাণ না করায় বর্ষাকালে ধস দেখা দিতে পারে। এতে কিছু ঘরের স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, প্রতিরক্ষা বাঁধের বাকি অংশ নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা নেবেন তাঁরা। আমরা তাঁর এ আশ্বাসে আস্থা রাখতে চাই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন