প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, পাঁচবিবি উপজেলার একটি ইটভাটার পাশের ৫০ বিঘার বেশি জমির ধানগাছের পাতা পুড়ে গেছে। দিন দিন ধানের পাতা পোড়ার পরিমাণ বাড়ছে। সেখানকার বেশির ভাগ জমিতে ধানের শিষ দেখা দিয়েছে। কিছুদিন পর কৃষকের ঘরে ধান ওঠার কথা। কিন্তু তার আগেই এমন সর্বনাশ ঘটনা ঘটে গেল। অনেক কৃষক ধারকর্জ ও ঋণ করে ধান চাষ করেছেন। খেতের ক্ষতি হয়ে যাওয়ায় ঋণ শোধ করা নিয়ে তাঁরা এখন চিন্তিত। যদিও ইটভাটার মালিক বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আবার এ–ও বলছেন, কৃষকদের ক্ষতি তিনি পুষিয়ে দেবেন। তার মানে বোঝাই যাচ্ছে, ইটভাটার কারণেই এমনটি ঘটেছে। যদিও ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্যে সন্দিহান কৃষকেরা।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তিনি ধানখেত নষ্ট হওয়ার কথা জেনেছেন। কৃষকদের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা দেখতে চাই তিনি ইটভাটার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

অন্যদিকে ঝিনাইদহের মহেশপুরে পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে কয়লার বদলে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে ভাটায়। উপজেলাটির ২১টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র তিনটি ভাটার বৈধতা আছে, বাকিগুলো অবৈধ। সেগুলোর আটটিতে শুধু কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছে। মৌসুমে একেকটি ভাটায় কয়েক হাজার মণ লাকড়ি লাগে। ভাটাগুলোর সামনে লাকড়ির স্তূপ দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভাটায় কাঠের জোগান আসছে আশপাশের এলাকার গাছপালা থেকে। সেখানকারও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, এত দিন ধরে বেআইনিভাবে কীভাবে চলছে ভাটাগুলো? পরিবেশ অধিদপ্তরই–বা কী করছে। অতএব তাঁদের এমন আশ্বাস আমাদের কাছে লোকদেখানোই মনে হয়।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন