বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০২০ সালের মতো বিগত বছরের শুরুতে করোনার ভয়াবহ প্রকোপ আমাদের বড় উদ্বেগের কারণ ছিল। করোনা মহামারি আমাদের অনেক সহকর্মী, স্বজন ও সুহৃদকে কেড়ে নিয়েছে। এটা অবশ্যই আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত করে। বছরের মাঝামাঝি করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় জনজীবনে ফের স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে, অর্থনীতি অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এটি নিঃসন্দেহে আশার কথা। বছর শেষে ফের অমিক্রন নামে নতুন ধরনের করোনা সংক্রমণ ঘটেছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এর প্রকোপ অপেক্ষাকৃত কম হলেও আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কিংবা মাস্ক পরায় শৈথিল্য দেখানো যাবে না। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব সব নাগরিককে টিকা দিতে হবে।

বছরের প্রায় পুরো সময়ই চিকিৎসার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া না পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত ছিল। সরকারের সঙ্গে দেনদরবারের পাশাপাশি বিএনপি রাজপথে আন্দোলনও করছে। একতরফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সারা বছরই সংঘাত-সংঘর্ষ লেগে ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে। ৭ ডিসেম্বর তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বেলাগাম কথাবার্তার জন্য। ডিসেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার জারি করে। দুটো ঘটনাই সরকারের জন্য ছিল বিব্রতকর।

বছর শেষে রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সংলাপ আহ্বান করেছেন। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ অনেক দল যোগ দিলেও বিএনপি, সিপিবি, বাসদসহ সাতটি দল সংলাপে যোগ দিচ্ছে না। দুর্ভাগ্যজনক যে সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত দুটি কমিশন জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। আমাদের প্রত্যাশা, সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন–পরবর্তী কমিশন জাতিকে উপহার দিতে পারবে। অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।

সবাইকে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের শুভেচ্ছা। ২০২২ সবার জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন