বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সড়কে মৃত্যু কমছে না। পরিবহন খাতের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য বন্ধ করতে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। সরকার ও পরিবহনমালিকদের বিরুদ্ধেই বারবার আঙুল উঠছে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, পরিবহনমালিকেরা সে দলের আশ্রয়পুষ্ট ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে ওঠেন। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগও হয় না, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশও মানা হয় না। মাঝেমধ্যে দু-একজন চালক-শ্রমিককে গ্রেপ্তার ও শাস্তি দিয়ে সমস্যা সমাধানের বৃথা চেষ্টা করা হয়।

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ করা হলেও এর কোনো প্রভাব সড়কে পড়েনি। মূলত আইনটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হয়নি বললেই চলে। সরকারই আইন করে, সেই আইন বাস্তবায়নে তারাই আবার কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখে না। দক্ষ চালক তৈরি, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলের জন্য সার্ভিস রোড নির্মাণ করার বিশেষজ্ঞদের কোনো সুপারিশই মানেনি সরকার। বলা হয়ে থাকে, গণপরিবহনে মালিক-শ্রমিক সমিতি ও পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ হলেই সড়কের শৃঙ্খলা বহুলাংশে ফিরে আসার কথা। কিন্তু সেটা নিয়েও কোনো ব্যবস্থা বা পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অনেকটা সরকারের মৌন সমর্থনেই চলছে এসব চাঁদাবাজি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার সমস্যাটি রাজনৈতিক। কারিগরিভাবে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সড়কের পরিস্থিতি এতটাই বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে যে চাইলেই সড়ক নিরাপদ করা এখন খুব কঠিন। যাঁরা সড়কে বিশৃঙ্খলার সুবিধাভোগী, তাঁরাই নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন কমিটিতে বসে আছেন। শুধু বক্তব্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা নয়, সত্যিকার অর্থে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কোনোভাবেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।

সড়ক দুর্ঘটনার মহামারি থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারকে আগে তার নিজের দায় স্বীকার করে নিতে হবে। এরপর সবচেয়ে জরুরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সড়ক দুর্ঘটনার দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে সেটি কোনোভাবে সম্ভব নয়। যথাযথভাবে আইন প্রয়োগ ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ মানা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এককথায় সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন