এ ছাড়া বিদ্যমান চিহ্নিতকরণ ফরমের পাশাপাশি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক শনাক্তকরণ পদ্ধতিতে তাঁর মুখের ছবি যুক্ত করতে হবে। মুখের ছবি সমন্বিত তথ্যভান্ডারে আপলোড করতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁর মুখের ছবি ধারণ করা সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশনের প্রথম কাজ হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা, জেলে পাঠানো, এমনকি সাজা বা দণ্ড দেওয়ারও উদাহরণ রয়েছে। কখনো কখনো এগুলো অসাবধানতাবশত বা অবহেলার কারণে ঘটেছে, কখনো আবার ‘কারসাজি’ করে ঘটানো হয়েছে। এগুলো ঘটার কারণ ছিল, আসামি, অভিযুক্ত বা আটক ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো না। কিন্তু এই রায়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে এবং এটি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা ও জেলে পাঠানো বন্ধ হতে পারে এবং মানুষের ভোগান্তি কমতে পারে। আদালত যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন, সেগুলো ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ। যেহেতু আইন–আদালতের অনেক কিছুই ডিজিটাল পদ্ধতিতে করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাই সরকারের উচিত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা।

পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আসামি বা অভিযুক্ত ব্যক্তির বয়স নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কিশোর-তরুণদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় অনেক সময় বয়স নিয়েও ‘কারসাজি’ করা হয়।

কখনো সাজা লঘু করতে বয়স কমিয়ে দেখানো, আবার অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে ফাঁসানোর জন্য বয়স বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করলে এই ‘কারসাজি’ বন্ধ হবে বলে আশা করা যায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন