বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের নিচু এলাকা ভরাট করতে মেসার্স চায়না হারবাল নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করছে। আর এতে ঝুঁকিতে পড়েছে শাহ্‌পরীর দ্বীপের পর্যটন জেটি, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয়, প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ, সীমান্ত সড়কসহ নানা স্থাপনা। এ স্থাপনাগুলো গোটা দ্বীপের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। অথচ বালু উত্তোলনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি। বালু উত্তোলন বন্ধের ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনও নীরব।

বালু তোলা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে গত শনিবার বেড়িবাঁধের ওপর মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু এখনো বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রতি শাহ্‌পরীর দ্বীপ রক্ষায় ১৪ কিলোমিটার ‘সীমান্ত সড়ক’ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এখন সেই বাঁধের কাছাকাছি দিনরাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। জোয়ারের ধাক্কায় কয়েক বছরে চার শতাধিক ঘরবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। এখন অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। দ্বীপবাসীর দাবি, বালুর প্রয়োজন হলে নাফ নদের অদূরে ভেসে ওঠা চর থেকে বালু সংগ্রহ করা যায়। এতে সেন্ট মার্টিন-টেকনাফ নৌপথে জাহাজ ও মাছ ধরার নৌকার চলাচল সহজ হতো।

আমরা জানতে পারছি, বালু তোলার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একটি চক্র। কোনো ধরনের ছাড়পত্র না নিয়ে বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠান এভাবে অবৈধভাবে বালু তুলছে আর স্থানীয় প্রশাসন চুপ করে আছে। তাহলে কি সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারাও? উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলছেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা দেখতে চাই দ্বীপটিকে রক্ষা করতে তিনি কী ব্যবস্থা নেন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন