default-image

দৈনিক প্রথম আলো যখন প্রতিষ্ঠার ২২ বছর পূর্ণ করছে, তখন বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে চলছে কোভিড-১৯ নামের এক দীর্ঘস্থায়ী মহামারি। এর অভিঘাতে অর্থনীতি পর্যুদস্ত, জীবন-জীবিকা সংকটাপন্ন। সংকটের ২২ পেরিয়ে বাইরে নয় সংবাদমাধ্যমও। তবু এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মধ্যেও প্রথম আলো সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের তথ্যপিপাসা মেটানোর চেষ্টা করে চলেছে। পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, পরিবেশক, হকারসহ সবাই আমাদের পাশে রয়েছেন। ২২ বছর পূর্তির এই মুহূর্তে আমরা সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই।

একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সংবাদমাধ্যমের অবিচ্ছেদ্য ভূমিকার কথা মনে রেখেই প্রথম আলো ২২ বছর ধরে সুসাংবাদিকতা অনুশীলনের চেষ্টা করে চলেছে। কখনো কখনো ভুলভ্রান্তি হয়েছে, কিন্তু অবিলম্বে সেসব দ্রুত শুধরে নেওয়া হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, সে কারণেই প্রথম আলো বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত ও আস্থাভাজন সংবাদমাধ্যমের মর্যাদা অর্জন করেছে; দেশের সীমা ছাড়িয়ে পৃথিবীর দুই শতাধিক দেশে কোটি পাঠকের ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ পথ নিষ্কণ্টক ছিল না। ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর প্রতিষ্ঠালগ্নে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ ছিল, আজও সেগুলো রয়ে গেছে। বরং কিছু বাড়তি চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামের একটি কালাকানুন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু প্রথম আলো সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে সৎ, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিতে অটল রয়েছে, সব সময় থাকবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সামাজিক সাম্য ও ন্যায়বিচার এবং অসাম্প্রদায়িকতার নীতিতে, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে প্রথম আলো এগিয়ে চলবে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং নেতিবাচক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার পাশাপাশি ব্যক্তি ও গোষ্ঠী পর্যায়ে সব ভালো উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতার খবরও পাঠকের সামনে তুলে ধরে। প্রশাসন ও সরকারের ভালো উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানায়, মন্দ কাজের সমালোচনা করে। সৃজনশীল, উদ্যোগী মানুষদের আরও এগিয়ে নিতেও উৎসাহ জোগায়। আমরা একটি সহিষ্ণু, যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ার পক্ষে আমাদের প্রয়াস অব্যাহত রেখেছি। প্রথম আলো শুরু থেকে দলনিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে বলেই সর্বমহলের পাঠকের সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। শিক্ষার হার বেড়েছে; স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির ফলে গড় আয়ু বেড়েছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় প্রথম আলো সহযোগীর ভূমিকা পালন করে চলেছে। কোভিড-১৯ মহামারি জাতীয় অর্থনীতিতে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, তা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রথম আলো নিজের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবে।

সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা অনস্বীকার্য, যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। উপরন্তু প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রভাবে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমশিল্পও কঠিন অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, নতুন প্রযুক্তি সাংবাদিকতার জন্য নতুন সম্ভাবনাও নিয়ে এসেছে। সেই সব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সুসাংবাদিকতাকে আরও বিকশিত করার প্রয়াসে এখন পাঠকের সমর্থন-সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমরা, সেই প্রথম দিনের মতোই, বাংলাদেশে সুসাংবাদিকতা বিকাশের অঙ্গীকার পালনে সচেষ্ট রয়েছি। আমরা চাই, বাংলাদেশ একটি গর্বিত জাতি হিসেবে বিশ্বের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াক। আমরা দেশকে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে গোটা জাতির সম্মিলিত উদ্যোগের সঙ্গে আছি।

মন্তব্য পড়ুন 0