বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় পাকিস্তান বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালাতে গিয়ে মুক্তিবাহিনী গৌরীপুর উপজেলার শিবপুর গ্রামে বিলের ওপর নির্মিত একটি সেতু ডিনামাইটের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর সেখানে আর সেতু নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলের দেড় হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের একটি কাঁচা সড়কের মধ্যে বিলের ওপর ভেঙে যাওয়া সেতুটি অবস্থিত। সেতুটি রামগোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর ও বালুহা গ্রামের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পর ভেঙে যাওয়া সেতুর ওপর রেললাইনের মতো দেখতে একটি মোটা লোহার পাত দিয়ে সরু সাঁকো তৈরি করেন স্থানীয় লোকজন। কিন্তু দীর্ঘদিনে সেটা নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, একসময় সড়কটি দিয়ে মানুষ খুব কম চলাচল করত। বর্তমানে শিবপুর-বালুহা সড়কের পাশে অনেক নতুন নতুন বাড়ি হয়েছে। মানুষ বেড়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সাঁকো পেরিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় শিশুরা লোহার পাতে পা পিছলে মাঝেমধ্যে বিলের পানিতে পড়ে যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে তাঁরা বিভিন্ন সময় সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ‘এ সেতুটির বিষয়ে কোনো জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় বাসিন্দা আমাদের জানাননি। লিখিতভাবে জানালে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠাব।’

গত বছর সারা দেশে নানা আয়োজনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপিত হয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় ভেঙে যাওয়া একটি সেতু গত ৫০ বছরেও নির্মাণ না হওয়া দুঃখজনক। স্থানীয় লোকজন বারবার বলার পরও জনপ্রতিনিধিরা কেন সেতুটি নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানাননি, তা বোধগম্য নয়। দেশের নানা স্থানে অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণের খবর মাঝেমধ্যেই গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়। অথচ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান হওয়া সত্ত্বেও গৌরীপুরের সেতুটি নির্মাণে কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এলাকাবাসীর ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে সেতুটি নির্মাণ করুন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন