বিরোধী জোটের অবরোধ-হরতালকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের পেট্রলবোমার প্রকোপ কিছুটা কমলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ‘ক্রসফায়ার’ চলছেই। এটি দুঃখজনক। গত শুক্রবার রাতেও কথিত ক্রসফায়ারে বরিশালে যুবদল ও জাসাসের দুই নেতা নিহত হয়েছেন। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গলায় হাতকড়ার চেইন প্যাঁচানো অবস্থায় মারা যান এক যুবক। এ কেমন ‘বন্দুকযুদ্ধ’, যেখানে প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ বা র‌্যাবের হাতে আটক ব্যক্তিই কেবল গুলিতে নিহত হন, যে অপরাধীরা গুলি করেছে বলে পুলিশ দাবি করে, তাদের কাউকেই তারা ধরতে পারে না!
‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ অধিকাংশ ঘটনায় সেই পুরোনো গল্পই বলছে পুলিশ যে আসামিকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের সময় অপরাধীদের গুলিতে পুলিশের হাতে আটক আসামির মৃত্যু হয়। নারায়ণগঞ্জে কতিপয় র‌্যাব সদস্যের হাতে সাত খুনের পর আশা করা গিয়েছিল, সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রাশ টেনে ধরবে। উপরন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর প্রধানেরা অপরাধীদের ধরে বিচারে সোপর্দ করার পরিবর্তে এ ধরনের বন্দুকযুদ্ধকেই উৎসাহ দিচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হয়।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় নিহত যুবদল নেতা ও জাসাস নেতাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের মামলায় আসামি করা হয়েছিল। তাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ঢাকায়, কিন্তু তাঁদের মৃত্যু হয় আগৈলঝাড়ায়। ফরিদপুরের ভাঙ্গার ঘটনায় নিহত যুবক পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। ওই যুবক যদি সন্ত্রাসীই হবেন, তাহলে এলাকাবাসী পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করবেন কেন? অপরাধীকে ধরা হোক, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, সেটি সবার কাম্য। তাই বলে এভাবে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে মানুষ হত্যা চলতে পারে না। অপরাধী ধরার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হলেও বিচারের দায়িত্ব আদালতের। সে ক্ষেত্রে কাউকে শাস্তি দিতে হলে আদালতের মাধ্যমেই দিতে হবে।
আমরা পেট্রলবোমার বিরুদ্ধে যেমন ধিক্কার জানাই, তেমনি ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নামক বিনা বিচারে হত্যার প্রতিবাদ জানাই।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন