চা–শিল্পে বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধা ও সুরক্ষা কেমন?
জহিরুল ইসলাম: চা–শিল্পকে ৬০ শতাংশ কৃষি ও ৪০ শতাংশ শিল্প ধরা হয়। চা–শিল্পের অংশীজনেরা বর্তমানে ৯ শতাংশ হারে ঋণ পাচ্ছে। এ ছাড়া বাগানগুলো করোনাকালীন প্রণোদনা পাচ্ছে। অনলাইন চা নিলাম পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। পূর্ণোদ্যমে অনলাইন নিলাম প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর যেকোনো স্থান থেকে চা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। এতে চা ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবেন।
চা–বাগানের শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
জহিরুল ইসলাম: শ্রমিকদের উৎপাদনদক্ষতা বাড়ানোর জন্য শ্রমিককল্যাণকে উন্নয়নের পথনকশায় অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ হাজার ঘর ও ১৫ হাজার শৌচাগার নির্মাণ করা হবে। অর্থাৎ প্রতি পাঁচ বছরে লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে পাঁচ হাজার ঘর ও পাঁচ হাজার শৌচাগার। স্বল্প মেয়াদের লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জিত হয়েছে। উন্নয়নের পথনকশায় নারী চা–শ্রমিকদের ক্ষমতায়নের জন্য চা–বাগানগুলোতে মোট ১০০টি ‘মাদার্স ক্লাব’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০টি মাদার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ বছর আরও ৪০টি মাদার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া চা–বাগানের শিশুদের নিরাপত্তার জন্য ক্রেস হাউস স্থাপন করা হচ্ছে। সুপেয় পানির জন্য পাতকুয়ার পাশাপাশি স্থাপন করা হচ্ছে গভীর ও হস্তচালিত নলকূপ। ২০৩০ সালের মধ্যে স্থাপিত মোট গভীর নলকূপের সংখ্যা হবে ৪০টি। হস্তচালিত নলকূপের সংখ্যা হবে সাড়ে চার হাজার। পাতকুয়ার সংখ্যা হবে ৩০০টি।
এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ তহবিল’ ও ‘বাংলাদেশ চা–শ্রমিক শিক্ষা ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে চা–বাগানের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাঁদের পোষ্যদের শিক্ষাসহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ দুটি তহবিলের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৮১২ জনকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ট্রাস্টের অর্থায়নে স্কুলে খেলাধুলাসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। কন্যাবিবাহ ও চিকিৎসাবাবদ অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এমন বহু কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চা বোর্ডের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা জানতে চাই।
জহিরুল ইসলাম: চায়ের পুরোনো যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করাই লক্ষ্য। ২০২৫ সালে ১৪০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে চা বোর্ড নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। লক্ষ্য পূরণ হলে দেশীয় চাহিদা পূরণ করে ২০২৫ সালে ১১ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করা সম্ভব হবে। আবার চায়ের উৎপাদন খরচ কমানো, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চা–শিল্পে যান্ত্রীকরণ, উন্নত জাতের চা ক্লোন উদ্ভাবন, বিভিন্ন ভ্যালু অ্যাডেড চা তৈরি এবং চা ও চাজাত পণ্যের ওপর গবেষণায় নানা কার্যক্রম চলমান আছে। জাতীয় চা দিবসে আজ শুক্রবার খরাসহিষ্ণু ও উচ্চফলনশীল দুটি ক্লোন অবমুক্ত করা হচ্ছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চায়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় উৎপাদিত চা দ্রুততম সময়ে বিক্রি হচ্ছে। এটি চা উৎপাদনকারীদের উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করছে। ক্ষুদ্রায়তন চা চাষের মাধ্যমে ক্ষুদ্র চা–চাষিদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ক্ষুদ্রায়তন চা আবাদ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ক্ষুদ্রায়তন চা আবাদ সম্প্রসারণের জন্য বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।