আকতার মাহমুদ নগর–পরিকল্পনাবিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি। প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) খসড়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে এম জাকারিয়া
default-image

প্রথম আলো: ১৯৯৫-২০১৫–এর পর ২০১৬-২০৩৫ বিশদ নগর-পরিকল্পনার খসড়া তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এর নানা সংশোধন আনা হয়েছে। নতুন খসড়া নিয়ে নানামুখী আলোচনা হচ্ছে। আপনার মূল্যায়ন কী?

আকতার মাহমুদ: নতুন খসড়াটি ঢাকা ও তার আশপাশে ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার ভূমি ব্যবহার, আবাসন, পরিবহন, পানিনিষ্কাশন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন, সামাজিক ও নাগরিক সেবা ইত্যাদি প্রদানের জন্য একটি সমন্বিত ও সামগ্রিক ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা। সুতরাং পরিকল্পনাটি সামগ্রিক বিচারে মূল্যায়ন করতে হবে, খণ্ডিতভাবে নয়। রাজধানী ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ঢাকার পরিসর যেমন বেড়েছে, তেমনি জনঘনত্ব বেড়েছে অসহনীয়ভাবে। এ রকম একটি শহরের পরিকল্পনা করা সহজ কাজ নয়। বর্তমানে প্রস্তাবিত বিশদ পরিকল্পনাটি দেশীয় বিশেষজ্ঞ দ্বারা বাংলা ভাষায় প্রণীত সহস্রাধিক পৃষ্ঠার একটি উন্নয়ন দলিল। এটি এমন সময়ে প্রণীত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, নিউ আরবান অ্যাজেন্ডা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করছে। সব বিচারে এই পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা দলিল।

বিজ্ঞাপন

একটি শহরের বিশদ নগর-পরিকল্পনায় যা যা বিবেচনায় নেওয়া উচিত, তা কি নতুন পরিকল্পনায় আছে?

আকতার মাহমুদ: প্রথাগতভাবে পরিকল্পনার সব বিষয় এখানে বিবেচনায় আনা হয়েছে। ড্যাপ প্রণয়নের অনুসৃত পদ্ধতি, খাতভিত্তিক আলোচনা ও প্রস্তাবনা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও বিধিবিধান ইত্যাদি এই রিপোর্টে সন্নিবেশিত হয়েছে। কিন্তু এর কোনো কোনো বিষয়ে কারও কারও দ্বিমত আছে, ঘাটতি আছে এবং সেটা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। দেখতে হবে পরিকল্পনাটি বিভিন্ন আর্থসামাজিক ও শ্রেণি–পেশার মানুষের জন্য কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হলো এবং সামাজিক সাম্যের বিষয়টি ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনায় কতটা প্রতিফলিত হলো। তবে যেসব জায়গায় ঘাটতি আছে, সেগুলো অবশ্যই সংশোধন করতে হবে।

নতুন পরিকল্পনার কোন দিকগুলো জরুরি বলে মনে করেন?

আকতার মাহমুদ: আধুনিক নগর–পরিকল্পনার ধারণাগত বিচারে এই ড্যাপে বেশ কিছু নতুনত্ব আনা হয়েছে। এর মধ্যে মেট্রো স্টেশনভিত্তিক ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি), ব্লক ডেভেলপমেন্ট, কমিউনিটিভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সেবার বিকেন্দ্রীকরণ, ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইট (টিডিআর), ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসম্পন্ন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিনোদনকেন্দ্র সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয় শহরের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করবে। পথচারীবান্ধব অবকাঠামো তৈরি ও বাইসাইকেল লেনকে উৎসাহিত করা এবং অযান্ত্রিক পরিবহনকে সামগ্রিক পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করা—এসব বিষয় জোরালোভাবে এসেছে। অপরিকল্পিত এলাকাকে পরিকল্পনামাফিক উন্নয়নের জন্য সহায়ক কৌশল হিসেবে ভূমি পুনর্বিন্যাস ও ভূমি পুনঃ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে স্থান পেয়েছে।

সমস্যার দিকগুলো কী?

আকতার মাহমুদ: প্রস্তাবিত বিশদ পরিকল্পনা অবশ্যই উচ্চতর কাঠামো পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং ড্যাপের আগে কাঠামো পরিকল্পনার আইনি বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রস্তাবিত ড্যাপে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ব্যাপকভাবে মিশ্র ভূমি ব্যবহার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য, জননিরাপত্তা ও পরিবেশগত সমস্যাকে প্রকট করবে। রাস্তা প্রশস্তকরণের বাধ্যবাধকতা না রেখে স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দিলে দুর্যোগকালে সেই এলাকায় জরুরি সাহায্যও পৌঁছানো যাবে না। রাজউকের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবল দিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এখানে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন আছে। শহরের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবহার সুস্পষ্টকরণ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শ্রমজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসনের স্থান নির্ধারণ এবং তার ব্যবস্থাপনার বিষয়টি জোরালোভাবে আসা উচিত। অনানুষ্ঠানিক বসতিগুলোর ব্যাপারে দিকনির্দেশনা থাকতে হবে।

শহরটিকে বাসযোগ্য রাখার ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনা কতটা ভূমিকা পালন করবে?

আকতার মাহমুদ: বেশ কিছু ভালো প্রস্তাবনা আছে। যে ত্রুটিবিচ্যুতির কথা বলা হচ্ছে, তা বিচার–বিশ্লেষণ করে সেগুলো সন্নিবেশ করার ব্যাপারে বিবেচনা করা এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকার বাসযোগ্যতা অবশ্যই বাড়বে। ঢাকাকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে একটি প্রতিযোগী নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বাসযোগ্যতার সূচকে উন্নতি করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নতুন খসড়ায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে অনেকে অভিযোগ করছেন। আপনি কী বলেন?

আকতার মাহমুদ: বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল ও কৃষিজমি সংরক্ষণের বিষয়ে কাঠামো পরিকল্পনায় গুরুত্বসহকারে থাকলেও প্রস্তাবিত ড্যাপে ব্লু-নেটওয়ার্ক তৈরি, ওয়াটার রিটেনশন পন্ড ও বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। শহরের পানিনিষ্কাশনের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ঢাকার ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। ড্যাপে প্রাকৃতিক জলাধারগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করা থাকলে এসব প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণে ২০০০ সালের ৩৬ নম্বর আইন (জলাধার সংরক্ষণ আইন হিসেবে পরিচিত) বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। ড্যাপের আওতাধীন এলাকার সব পুকুর প্ল্যানে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ওয়াটার রিটেনশন পন্ডগুলো চিহ্নিত করাপূর্বক দ্রুত এলাকাগুলো অধিগ্রহণ করে সংরক্ষণ ও গণপরিসর হিসেবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।

উঁচু ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করছেন অনেকে। উঁচু ভবন নির্মাণ কমানোর বিষয়টি ঢাকার মতো কম জমির শহরের জন্য কতটা বাস্তবসম্মত?

আকতার মাহমুদ: উঁচু ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এসেছে মূলত জনবহুল ঢাকার মাত্রাতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে। ইমারত নির্মাণে উচ্চমানের ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) প্রয়োগ করার ফলাফল হিসেবে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এই শহরে বাস করে এবং পরিবহন ্যবস্থা, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সামাজিক ও অন্যান্য নাগরিক সেবাকে জনগণের কাছে অপ্রতুল করে তুলেছে। ইউএন হ্যাবিট্যাটের ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৪ হাজার ৫০০ মানুষ বসবাস করে। পৃথিবীর সব মেগাসিটির মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ঘনত্বের শহর। জনসংখ্যার বিবেচনায় পৃথিবীর আরও কিছু মেগাসিটি আছে, যাদের সংখ্যা ঢাকার চেয়ে বেশি, কিন্তু ঘনত্ব অনেক অনেক কম এবং সেই সঙ্গে আছে উন্নত পরিবহনব্যবস্থা ও প্রচুর উন্মুক্ত স্থান। ধানমন্ডি এলাকাকে যদি বিবেচনায় নিই, ১ হাজার ৮৩টি প্লটে বিভক্ত করে উন্নয়ন করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ১৮ হাজার মানুষের এলাকা হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে প্লট ভাগ করা হয়েছে, দফায় দফায় ভবনের উচ্চতা ও ব্যবহার পরিবর্তন করা হয়েছে, ফলে ধানমন্ডির ওই প্লটগুলোতে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে এখন দেড় লাখ। একই পরিমাণ সক্ষমতা নিয়ে ১০ গুণ মানুষকে নাগরিক সেবা দিতে হচ্ছে।

ঢাকার নাগরিক সেবা ও সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের পথ কী?

আকতার মাহমুদ: এই ক্ষেত্রে কোনো একক সহজ সমাধান নেই। ঢাকার ভেতরে ও বাইরে একই সঙ্গে সমান্তরাল কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এলাকাভিত্তিক জনঘনত্বের ম্যাপ তৈরি করা, এলাকাভিত্তিক সামাজিক ও নাগরিক সুবিধা এবং অবকাঠামোর তালিকা প্রস্তুত করাসহ সেই অনুযায়ী ‘ডেভেলপমেন্ট পারমিট/উন্নয়ন অনুমোদন’ দেওয়া। প্লটের আয়তন বিচারে ডুয়েলিং ইউনিট (পরিবারের সংখ্যা) নির্ধারণ করা এবং সে অনুযায়ী ইমারতের ফ্লোর এরিয়া রেশিও-এর সূচক নির্ধারণ করা। রাজউকের পূর্বাচল, উত্তরা তৃতীয় পর্যায়, ঝিলমিলের মতো বড় বড় আবাসিক এলাকা তৈরি করার কাজ ২৫ বছর আগে নিলেও এখন পর্যন্ত সেখানে বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে না। বাড়িঘর তৈরি করার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে সেখানে বসতি তৈরি হলে মূল শহরের জনঘনত্ব
কমে আসত। ঢাকার আশপাশের নগরকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে উন্নত যোগাযোগের জন্য আঞ্চলিক পরিকল্পনা করার মাধ্যমে বিকেন্দ্রীকরণের ব্যবস্থা করা এবং দেশের বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, পৌরসভা ও উপজেলা শহর এলাকায় কর্মক্ষেত্রের সুযোগ সৃষ্টি, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া গেলে ঢাকার ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাপ কমে আসবে।

কোভিডের কারণে স্বাস্থ্যসচেতনতার বিষয়টি আমাদের সামনে এসেছে। আধুনিক নগর-পরিকল্পনার সঙ্গে স্বাস্থ্য বিষয়টি খুবই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নতুন প্রস্তাব কতটা স্বাস্থ্যসম্মত নগরের নিশ্চয়তা দেবে?

আকতার মাহমুদ: নগর–পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয় ঐতিহাসিকভাবে সম্পর্কিত। আধুনিক নগর–পরিকল্পনায় খেলার মাঠ-পার্ক-উদ্যান-জলাশয়কে বলা হয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো। প্রস্তাবিত ড্যাপে বিভিন্ন সংখ্যার আঞ্চলিক পার্ক, জলপার্ক, ইকোপার্ক ও ছোট আকৃতির পার্ক তৈরির কথা বলা হয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, স্কুল ও নাগরিক সেবা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সব প্রস্তাব ভূমিকা রাখতে পারে। তবে জনঘনত্ব ও দূষণ স্বাস্থ্যসম্মত নগর গড়ে তোলার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। কোনো শহরের জনঘনত্ব একরপ্রতি ১২০–এর ওপর গেলে বাসযোগ্যতা কমতে থাকে, সেখানে ঢাকার অনেক এলাকাতে একরপ্রতি জনঘনত্ব ৫৫০–এর বেশি। এলাকাভিত্তিক জনঘনত্ব নির্ধারণ করার মাধ্যমে নগর–পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নগর এলাকার ভবনগুলোর ভেতর সূর্যের আলো, বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করতে ইমারত–সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিবিধান ও নগর–পরিকল্পনা প্রণয়ন করার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এই খসড়া পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কী উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন?

আকতার মাহমুদ: গণশুনানির মতামত ও অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০১৬-২০৩৫) চূড়ান্ত করা হবে, এটা প্রত্যাশা করি। একটি ভালো পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন ঢাকার বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়তা করবে। রাজধানী ঢাকাকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে একটি প্রতিযোগী নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে একটি ভালো পরিকল্পনার প্রয়োজন।

প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।

আকতার মাহমুদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0