ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরাও সারা বছর এই মৌসুমের জন্যই যেন অপেক্ষায় থাকেন। তবে করোনার কারণে বিগত দুই মৌসুম দিনাজপুরের বাইরের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের লিচু থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। এ কারণে এবার শিক্ষার্থীদের লিচুর প্রতি আগ্রহ–উদ্দীপনা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তাই সম্প্রতি ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরেই মেতে উঠেছেন লিচু পাড়ায়। বন্ধুরা মিলে ইচ্ছেমতো গাছে উঠে লিচু পাড়ার একরকম প্রতিযোগিতায় মেতেছেন শিক্ষার্থীরা।

দেখা যাচ্ছে, অতি উদ্দীপনার বশে শিক্ষার্থীরা অপরিপক্ব লিচু পাড়ছে। এতে করে সুস্বাদু এই ফলটি যেমন নষ্ট হচ্ছে, সেই সঙ্গে এ লিচু খাওয়া হতে পারে অসুস্থতার কারণও।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ফসল শারীরতত্ত্ব ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুব্রত কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘লিচু অত্যন্ত সুমিষ্ট এবং রসালো একটি ফল। গ্রীষ্মের যে ফলগুলোর জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি, তার মধ্যে লিচু অন্যতম। চোখজুড়ানো রং আর প্রাণজুড়ানো স্বাদের কারণে লিচু সবার পছন্দের তালিকায়। স্বাদের পাশাপাশি এটি পুষ্টিগুণেও অনন্য। ক্যাম্পাসের লিচুগুলো এখনো পাকেনি, খাওয়ারও উপযোগী নয়। লিচুগুলো পাকতে এখনো ১০-১২ দিন মতো সময় লাগবে। সঠিক সময়ে লিচুর আহরণ করা হলে আমরা এই সুমিষ্ট ফলগুলো উপভোগ করতে পারব। এই কাঁচা অপরিপক্ব লিচু খেলে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। কাঁচা বা আধা-পাকা লিচুতে থাকা টক্সিন হাইপোগ্লাইসিন এ এবং মিথাইলিন-সাইক্লো-প্রোপাইল-গ্লাইসিন নামক টক্সিন উপাদান বিষক্রিয়া ঘটিয়ে মৃত্যু ঘটাতেও পারে।’

তিনি আরও জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, হাইপোগ্লাইসিন এ সাধারণত কাঁচা বা আধা পাকা অর্থাৎ পাকা নয়, এমন লিচুতে পাওয়া যায়। এটি একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা মারাত্মক বমি বমি ভাব সৃষ্টি করে। অন্যদিকে মিথাইলিন-সাইক্লো-প্রোপাইল-গ্লাইসিন উপাদানটি গ্রহণের ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত কমে যায়। এর কারণে বমি, অচেতন এবং দুর্বল হয়ে পড়ে রোগী। অনেক রোগী কোমায় চলে যায়, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। ২০১৫ সালে মার্কিন গবেষকেরা জানান, ফলে থাকা এমসিপিএ নামক একটি বিষাক্ত পদার্থ গ্রহণের মাধ্যমে মস্তিষ্কের রোগ (একিউট এনকেফালাইটিস সিনড্রম) হতে পারে। গবেষকদের মতে, কাঁচা ও অপরিপক্ব লিচুতে এ বিষাক্ত পদার্থ অধিক মাত্রায় পাওয়া যায়।

আমাদের উচিত, কাঁচা বা আধা পাকা লিচু খাওয়া থেকে বিরত থাকা। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সচেতনতাও বাড়াতে হবে। আমরা চাই না, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে হাবিপ্রবির কোনো শিক্ষার্থী লিচু খাওয়ার উদ্দীপনায় অসুস্থ হয়ে পড়ুক।

মো. গোলাম ফাহিমুল্লাহ
শিক্ষার্থী
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
দিনাজপুর।

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন