বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) সূত্র বলছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন ১ হাজার ৫৮ জন। অন্যদিকে ২০১৯ সালের জুন থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২০—এই ৯ মাসে এ সংখ্যা ছিল ৯৪০। অর্থাৎ করোনার ৯ মাসে আত্মহত্যা ১৩ শতাংশ বেড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে ৫৪ হাজার ৩৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। এসব আত্মহত্যা হয়েছে ফাঁসিতে ঝুলে ও বিষপানে। এর বাইরে ঘুমের ওষুধ খাওয়া, লাফিয়ে পড়া, রেললাইনে ঝাঁপ দেওয়ার মতো ঘটনাও ছিল। ২০১৪ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন আত্মহত্যা করেন। এর বেশির ভাগ ২১ থেকে ৩০ বছরের নারী।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘প্রিভেন্টিং সুইসাইড: অ্যা সোর্স ফর মিডিয়া প্রফেশনালস ২০১৭’ জরিপ বলছে, ‘প্রতিবছর বিশ্বে ১০ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করেন। প্রতি ৪০ সেকেন্ডে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে একটি।’ আরও একটি জরিপ বলছে, ‘গত ৪৫ বছরে আত্মহত্যার ঘটনা ৬০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বে বর্তমানে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মানুষের মৃত্যুর প্রধান তিনটি কারণের মধ্যে একটি হচ্ছে আত্মহত্যা। করোনাকালে গত এক বছরে সারা দেশে ১৪ হাজার ৪৩৬ জন নারী-পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে তরুণদের সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন। তাঁদের মধ্যে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। এঁদের ৭৩ জনই স্কুল, ৪২ জন বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল কলেজ, ২৭ জন কলেজ ও ২৯ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তাঁদের বেশির ভাগের বয়স ১২ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।

ইভ টিজিং, যৌন নিপীড়ন, যৌতুকের চাপ, অভাব, পারিবারিক কিংবা সামাজিক নির্যাতনের মতো ঘটনায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে মেয়েরা। ছেলেদের বেলায় প্রেমে ব্যর্থতা, মাদকে আসক্তি, ক্যারিয়ার ইত্যাদি কারণ। হতাশাজনিত বিষয় তো বড় কারণ আত্মহননের জন্য। গেম খেলতে না দেওয়া, নতুন মুঠোফোন বা পোশাক কিনে না দেওয়ার মতো ঘটনায়ও অভিমানে আত্মহত্যার ঘটনা আমরা প্রায় দেখি। নৈতিক স্খলন, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, ব্ল্যাকমেলিংয়ের কারণেও আশঙ্কাজনক হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে।

করোনায় মানুষ কাজ হারিয়ে হতভম্ব হয়ে পড়েছে। বিষণ্নতায় ভুগছে। নানা রোগে মারা গেলেও মানুষ মনে করছে করোনায় মৃত্যু হয়েছে। আমাদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। জীবনের অবমূল্যায়ন, বেতন কমে যাওয়ায় চরম হতাশা ও বিষণ্নতায় ভুগছে মানুষ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে মানুষ বৃদ্ধি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে হলে সবাইকে যার যার ক্ষেত্র থেকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিশুদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সফলতার মতো ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারে। আত্মহত্যার উপকরণ, যেমন ঘুমের ওষুধ, কীটনাশকের সহজলভ্যতা কমাতে হবে। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ঘুমের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। যেকোনো ধরনের মানসিক সমস্যা বা আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। একাকিত্ব ভালো না লাগলে পরিবারের অন্য সদস্যদের বুঝিয়ে বলতে হবে এবং সুযোগ থাকলে ভ্রমণে যেতে হবে। মাদকাসক্তি বা ইন্টারনেটে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি থেকে বিরত থাকতে হবে। পড়ালেখা, খেলাধুলা, শখের কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে। নিজে সচেতন হই, অপরকেও সচেতন হতে সাহায্য করি। নিজের জীবনকে উপভোগ করি।

রাশেদ ইসলাম

শিক্ষার্থী, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন