default-image

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা ভূমিকর আদায়ের সুবিধার্থে এ দেশে ভূমি ইজারা পদ্ধতি চালুর মধ্য দিয়ে জমিদারি প্রথা চালু করেন। পরবর্তীকালে জমিদারি প্রথা বিলোপ করা হলে সরকারিভাবে ভূমিকর বা খাজনা আদায়ের জন্য পল্লি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকার কর্তৃক স্থায়ীভাবে তহশিল কাচারি বা অফিস বসানো হয়। তখন কাছাকাছি তহশিল অফিসে গিয়ে কয়েক ইউনিয়নের মানুষের ভূমিকর বা খাজনা প্রদান করতে বাধা ছিল না।

ভূমিকর বা খাজনা প্রদান আরও গতিশীল, সহজতর এবং তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সরকার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ইউনিয়নের স্বনামে একটি ভূমি অফিস রাখার বিধান করে। কেবল সংশ্লিষ্ট ওই ইউনিয়নের জনগণই সেখানে কর প্রদান করতে পারবে। নতুন বিধানমতে ‘তহশিল অফিসের’ নাম পরিবর্তন করে ‘ইউনিয়ন ভূমি অফিস’ করা হয়। ইউনিয়ন অফিসে কর আদায়ের ব্যবস্থা চালু করা হলেও আজ পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নাম যুক্ত করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী স্থানের নামেই অনেক ভূমি অফিসের নাম রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলাধীন ‘লালপুর তহশিল অফিসের’ নাম ‘লালপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস’ করা হয়। অথচ লালপুর নামে তিতাস উপজেলায় কোনো ইউনিয়ন পরিষদ নেই। লালপুর মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় একটি স্থানের নাম। যা বিধানমতে হওয়ার কথা ছিল, ‘মজিদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস’। এমনিভাবে সাতানী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নাম পরবর্তী জগৎপুর (উত্তর) ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসেবেই চালানো হচ্ছে। তাতে সাতানী ইউনিয়নের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, বিষয়টি একান্তই ভূমি মন্ত্রণালয় এবং ভূমি সংস্কার বোর্ডের। তাই তাদের কিছুই করার নেই। তাদের জানামতে, সারা দেশের ইউনিয়ন ভূমি অফিসই নাকি এভাবে চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনিয়নের নামে ভূমি অফিসের নামকরণ করার দাবি জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আঞ্জুমান আরা বেগম: সাতানী, তিতাস, কুমিল্লা

মন্তব্য পড়ুন 0